নেদারল্যান্ডের রাণীর সঙ্গে পলকের সাক্ষাৎ

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৫, ১৭:৫০

বাংলাদেশের গ্রামীণজনপদের নারীরা বেশ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেছে। কৃষি কাজে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। পাশাপাশি এদেশে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। ফলে কৃষি-বহির্ভূত তথা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে গ্রামীণ নারীদেরকে আরো ব্যাপক আকারে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষ ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার এক অপূর্ব ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরো জোরদার করা যাবে। বুধবার রাজধানীর সোনাগাঁয়ে হোটেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে বাংলাদেশ সফররত নেদারল্যান্ডের রাণী ও জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত গধীরসধের মধ্যকার এক সৌজন্য সাক্ষাতে রাণী এই মন্তব্য করেন।
 
তখন প্রতিমন্ত্রী রাণীকে বলেন, গ্রামীণ নারীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ইতোমধ্যে ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’, ‘বাড়ি বসে বড়লোক’ ইত্যাদি প্রকেল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসকল এলাকায় প্রযুক্তি সুবিধা কম সেসব জায়গায় নেদারল্যান্ডের ফ্লোর্টিং সিটি অ্যাপস এবং আইসিটি ডিভিশন, রবি ও হুয়াওয়ে কর্তৃক চালু হতে যাওয়া ডিজিটাল বাসের সহায়তায় প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদান করার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
 
এছাড়াও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, প্রধানত নারীদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করতে নেদারল্যান্ডকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্র্যান্ড নেট পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে গ্রমীণ জনপদে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম আরো জোরদার করতে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহার-বান্ধব কম খরচের মোবাইল ফোন উৎপাদন করতে প্র্রতিমন্ত্রীকে আহ্বান জানান রাণী।
 
প্রতিমন্ত্রী রাণীকে জানান, ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়ালইনক্লুসনে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এজেনন্টদের ওপর পারনির্ভরতা কমাতে ও তাদের আর্থিক লেনদেন সুরক্ষিত রাখতে সরকার কাজ করছে। এর জন্য শিগগিরই একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে।
 
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডট্রাস্ট ফান্ড এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে নেদারল্যান্ড সরকারকে ধন্যবাদও জানান প্রতিমন্ত্রী।
 
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সৌজন্য স্বাক্ষাতে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের এমডি হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এসএম আশরাফুল ইসলামসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।