রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক খাতের চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সমঝোতা স্মারকে চুক্তি অনুসারে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সূচকে উন্নতি না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক চারটি চিঠি ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ৪৯ ধারা অনুসারে ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছে।
সূত্র জানায়—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারজন নির্বাহী পরিচালককে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংকে মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরীকে, অগ্রণী ব্যাংকে আহমেদ জামালকে, জনতা ব্যাংকে নির্মল চন্দ্র ভক্তকে এবং রূপালী ব্যাংকে মো. আব্দুর রহিমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংকগুলোর আর্থিক সূচকের ক্রমাগত অবনতির হাত থেকে বাঁচাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। কেননা, এসব ব্যাংক নানান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে পারেনি। এমনকি ব্যাংকগুলো সুশাসন নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর আছে, তার শর্ত পরিপালনে কাজ করবেন। তারা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, অডিট কমিটি, ক্রেডিট কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ব্যাংকের মেমোগুলো দেখে মতামত দেবেন। আর ব্যাংকে আইন বিরোধী বা আপত্তিকর কোনো কিছু সংঘটিত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রিপোর্ট করবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে—রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করানো হয়ছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত কোনো অগ্রগতি সাধিত হয়নি, বরং অবনতি হয়েছে। বুধবার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে— পর্যবেক্ষকরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ক্রেডিট ও অডিট কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া, যেকোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন কর্মদিবস আগে সংশ্লিষ্ট কাগজ-পত্র পর্যবেক্ষকের কাছে পাঠাতে হবে। ব্যাংকের আর্থিক সূচক উন্নত না হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষক সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন।
সূত্র জানায়—বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এমওইউ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর আর্থিক অগ্রগতি হচ্ছে না। সেপ্টেম্বর শেষে এ সব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ঋণের ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ সময় মূলধন-ঘাটতিও বেড়েছে। এ সব বিষয়ে সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বৈঠকে শিগগির খেলাপি ঋণ কমানো, মূলধন ঘাটতি মেটানোসহ সার্বিক সূচকের উন্নতির নির্দেশনা দেয়া হয়।
