বিলাসবহুল গাড়ি ও সজ্জায় উচ্চব্যয় পরিহারের নির্দেশ

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৫, ২১:৫৬
 
 
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থে পর্ষদ চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় নিরুত্সাহিত করতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে উচ্চব্যয়ের লাগাম টানতে ব্যাংক শাখার চাকচিক্যপূর্ণ সাজসজ্জায় ব্যয় কমিয়ে আনারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
 
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সম্প্রতি কোনো কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নানাবিধ উচ্চব্যয় নির্বাহের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ছাড়া, প্রতিষ্ঠানের অর্থে পর্ষদ চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল মোটরগাড়ি ক্রয় এবং ব্যাংক শাখার চাকচিক্যপূর্ণ সাজসজ্জায় উচ্চ অংকের ব্যয় আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ প্রবণতা নিরুত্সাহিত করার লক্ষ্যে ৫০ লাখ টাকার অধিক মূল্যে মোটরকার কেনা যাবে না। অবশ্য জিপ কিনলে এ পরিমাণ সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা করা হয়েছে। আগে মোটরকারের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ এবং জিপের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা খরচ করা যেত। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে যানবাহন ক্রয় করতে হবে।
 
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে—মোটরযান বহরে যানবাহনের সংখ্যার প্রবৃদ্ধি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জনবল ও অফিস শাখার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। সাধারণভাবে পর্ষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর জন্য সার্বক্ষণিক গাড়িসহ সকল যানবাহন অন্তত  ৫ বছর ব্যবহারের পর প্রতিস্থাপনযোগ্য হবে। ব্যাংকের মোটরযান বহরের ব্যবহার ও পরিচালনা ব্যয়ের তথ্য ষান্মাসিকভাবে পরিচালনা পর্ষদের সভায় এবং প্রত্যেক বার্ষিক সাধারণ সভায় অবগতি ও পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করতে হবে।
 
প্রজ্ঞাপনে সাজসজ্জার বিষয়ে বলা হয়েছে—এখন থেকে নতুন শাখা স্থাপন বা বিদ্যমান শাখা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ৫ হাজার বর্গফুটের অধিক ফ্লোর স্পেস ব্যবহার করা যাবে না। আইটি সরঞ্জাম ব্যতীত অন্যান্য খাতে (ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, অফিস ফার্নিচার, ইলেকট্রিক-ইলেকট্রনিক প্রভৃতি) নতুন শাখা স্থাপন ও বিদ্যমান শাখা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকার অধিক ব্যয় করা যাবে না। আইটি সরঞ্জাম বাবদ ব্যয়ও যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখতে হবে। তবে আসবাবাদি ও অন্যান্য সরঞ্জামে বিলাসিতা বা চাকচিক্যের পরিবর্তে মৌলিক প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে পর্যাপ্ত গুনগত মান ও টেকসই হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।