জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৫, ০১:৫৮

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাদের ধরিয়ে দিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ অনেক চড়াই-উত্রাই পার হয়েই আজ এ পর্যায়ে এসেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউই রুখতে পারবে না। গণতন্ত্রের সুফল পেতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখন ক্ষমতা দখলের কোনো সুযোগ নেই। অনির্বাচিত বা অসাংবিধানিক কোনো সরকার যাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য সংবিধানে ৭ (ক) অনুচ্ছেদ সন্নিবেশ করার মাধ্যমে অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টাকে রাষ্ট্রদ্রোহীতা হিসেবে চিহ্নিত করে এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান করা হয়েছে।

 
গতকাল বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে ছিটমহলবাসী কোনো দেশের সম্পদ ছিল না। তারা এতদিন বিচ্ছিন্ন ছিল। তখন সেখানে কিছু দুর্বৃত্ত বা সন্ত্রাসী থাকলেও থাকতে পারে। তিনি বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলের সেই অবস্থা এখন পাল্টে গেছে। সেখান থেকে এখন দুর্বৃত্তরা কোথায় পালিয়ে গেল জানি না। তবে বিরোধী দলের নেতার কাছে বিলুপ্ত ছিটমহলে দুর্বৃত্ত বা সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কোনো তথ্য বা তালিকা থাকলে আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করুন। তালিকা পেলে আমরা দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে পারব। আমি বিরোধী দলের নেতাকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।
 
ছিটমহল দাসিয়ারছড়াকে আলাদা ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের জন্য বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন বাজেট থেকে বরাদ্দ দিয়ে ছিটমহলের উন্নয়ন করছি। কিন্তু আলাদা ইউনিয়ন করা হলে সেই বরাদ্দ সম্ভব নয়।
 
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, এ লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত গঠিত সন্ত্রাস দমন কমিটির সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলার মাধ্যমে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে দেশকে যেমন রক্ষার কৌশল নেয়া হয়েছে, সেই সঙ্গে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গড়ে তুলেছে। জলবায়ু মোকাবিলায় ১৩৫টি পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছি। এক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জন্ম থেকেই পরিবেশ সচেতন।
 
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব আরও দীর্ঘায়িত করার ব্যাপারে বিরোধী দলের নেতার দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল জীবনেও এত জোরে জোরে বড় প্রশ্নের উত্তর পড়িনি। এত বড় লম্বা প্রশ্নের উত্তর এ কারণেই সংসদে পড়ে শোনাই, যাতে দেশের মানুষ বুঝতে পারে সংসদ অধিবেশনে এ সংসদ ও সরকার তাদের কল্যাণে কী কী কাজ করে যাচ্ছে। আর অতীতের যে কোনো প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে সংসদ অধিবেশনে আমিই সবচেয়ে বেশি উপস্থিত থাকি, সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি। জাতীয় পার্টির (জাপা) কাজী ফিরোজ রশীদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির ধারাবাহিকতায় ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় হওয়ায় ছিটমহলবাসীদের ৬৮ বছরের পুরাতন সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ছিটমহলবাসীর পুনর্বাসন এবং তাদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে অর্থ বিভাগের বাজেটে প্রতীকী বরাদ্দ হিসাবে ছিটমহলের উন্নয়নের জন্য ২শ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফারাজীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে।
 
জাসদের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও লাখো মানুষের জীবন ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু চড়াই উত্রাই পেরিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনে যাতে অনির্বাচিত বা অসাংবিধানিক কোনো সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে। সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভীতকে মজবুত করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।