বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি হারে ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষক নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরর। এ ছাড়া, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. আহমদ বিন ফাহাদ আল ফুয়াইদ। বৃহস্পতিবার দুই দেশের ১১তম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভা (জেইসি) শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশবাদ ব্যক্ত করেন।
শেরে বাংলা নগরস্থ ইআরডি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এ সভা বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। সভা শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন।
মেজবাহ উদ্দিন বলেন, দুই দিনের জেইসি বৈঠকে ব্যবসায়-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, বিমান চলাচল, ধর্ম, শিক্ষা, অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ, স্বাস্থ্য, কৃষি, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি ও সৌদি আরব থেকে সার আমদানি বিষয়গুলো আলোচনায় হয়েছে। বৈঠকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব।
এ ছাড়া, দেশটি বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোরও আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। সৌদি ফান্ড বাংলাদেশে তাদের ঋণ কার্যক্রম বৃদ্ধি করবে বলেও জানিয়েছে। ইআরডি সচিব আরো জানান, একক দেশ হিসাবে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে সৌদি আরব থেকে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে রেমিটেন্স এসেছিল ৩৩৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। তিনি আরো জানান শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে এ কারণে সৌদি সরকার শ্রমিক নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া, বাংলাদেশি চিকিত্সক ও গ্রেজুয়েট নার্স এবং শিক্ষক নিয়োগে বেশ আগ্রহী সৌদি আরব। সভায় সৌদি আরবে টেক্সটাইল, গার্মেন্ট, চামড়া ও চামড়া জাত পণ্য, ঔষধসহ কিছু পণ্যের শুল্পমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছে সৌদি কর্মকর্তারা। ওমরা হজের ভিসা জটিলতা বিষয়ে মেজবাহ উদ্দিন জানান- দীর্ঘদিন ধরে ওমরা হজ পালনে ভিসা বন্ধ আছে। আমরা বিষয়টি সৌদি প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরেছি। এখনো এ বিষয়ে তারা আমাদের কিছু জানায়নি। আশা করি—শিগগিরই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবে সৌদি সরকার।
এ বিষয়ে ধর্ম সচিব চৌধুরী বাবুল হাসান জানায়- সৌদি সরকার ১০৪টি হজ এজেন্সি বিষয়ে আমাদের অভিযোগ করেছিল। এর মধ্যে ৬৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছি। ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে জরিমানা করেছি। ৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের এ পদক্ষেপে সৌদি সরকারও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে ওমরা হজের ভিসা-সংক্রান্ত ঝামেলা কেটে যাবে আশা প্রকাশ করছি। বৈঠকে সৌদি আরব হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাচার দুই পক্ষই একমত হয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী অর্থায়ন ঠেকাতে দুই দেশের মানি লন্ডারিং আইন শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে।
বর্তমানে তেলের দাম কমে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে থাকার ফলে বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সৌদি উপমন্ত্রী অর্থনৈতিক কোনো সংকট নেই বলে উল্লেখ করেন।
