সংসদে পৌরসভা বিল পাস

শুধু মেয়র পদেই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৫, ২৩:৪৯

শুধু মেয়র পদেই রাজনৈতিক দলের প্রতীক বরাদ্দ করা হবে এবং কাউন্সিলরসহ অন্য পদে আগের মতোই নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে- এই বিধান রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধনী) বিল-২০১৫’। পাস হওয়া বিল অনুযায়ী মেয়র ছাড়া কাউন্সিলরসহ অন্য প্রার্থীদের আগের মতোই নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতীক বরাদ্ধ নিতে হবে।

 
জানা গেছে, নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো ভ্যাটিংয়ের জন্য আগামী রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে নির্বাচন কমিশন। পরদিন সোমবার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর ডিসেম্বরের শেষদিকে এই নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
গতকাল রাতে সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার  মোশাররফ হোসেন। যদিও বিলটিতে একাধিক সদস্য জনমত যাচাই ও বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন এবং এ প্রসঙ্গে তাদের যুক্তি তুলে ধরেন। পরে অবশ্য মন্ত্রী তাদের সেসব প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে তা বাতিল করার প্রস্তাব করেন। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জনমত যাচাই ও কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তা নাকচ হয়ে যায়। পরে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়।
 
বিলটিতে জনমত যাচাই ও কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব দেন বিরোধীদল জাতীয় পার্টির (জাপা) ফখরুল ইমাম, সেলিম উদ্দিন ও পীর ফজলুর রহমান, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ও হাজী মো. সেলিম। বিলটি পাসের আগে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি কাউন্সিলর পদেও দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার বিধান যুক্ত করতে সংশোধনী প্রস্তাব জমা দেন সরকারের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্যরা। পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, অ্যাডভোটেক মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ ও টিপু সুলতান পৃথকভাবে এ সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। তবে সরকারি দলের সদস্যদের উত্থাপিত কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, সংসদে পাস হওয়া বিলটি রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করলে তা আইনে পরিণত হবে। এর মধ্য দিয়ে গত ২ নভেম্বর পৌর আইন সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাবে। গত ১৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত এই বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার বিলটি পাসের সুপারিশ করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয় সংসদীয় কমিটি।
 
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি নির্বাচনই উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এসব নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও বাস্তবে প্রতিটি দলই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দলীয় ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়ে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন থেকে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা রাজনৈতিক পরিচয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পালনের সুযোগ দিতে এই বিল আনা হয়েছে।
 
ঢাকা সাজাতে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ডিএসসিসি
 
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দক্ষিণ সিটির জন্য ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প বিবেচনাধীন রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
 
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় নাগরিকদের সুবিধার জন্য ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা এগুলো করছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন হচ্ছে অথচ তাদের কোনো অনুমতি নেয়া হয় না। এটা ঠিক না। বিষয়টি নিয়ে আমরা কথা বলবো।
 

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ঢাকার জনসংখ্যা এখন প্রায় পৌনে তিন কোটি। ঢাকার মতো দ্রুত নগরায়ন পৃথিবীর কোথাও হয়নি। এটার জন্য আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পারিনি। তাই আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত সময় অনির্বাচিত প্রশাসকরা থাকাতে দক্ষিণ সিটিতে বেশ কিছু অব্যবস্থাপনা ছিল। বাজেটের অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। এই ঋণ বোঝার মতো দেখা দিয়েছে। একটা বিশেষ প্রকল্প করে সেই টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।