বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ‘তৃণমূল বিএনপি’ নামে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এর আগে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি) নামেও দল গড়েছিলেন।
শুক্রবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে তৃণমূল বিএনপি নামে নতুন এই দল গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। নিজেকে নতুন এই দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করে নাজমুল হুদা বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবহেলা করায় কেন্দ্রীয় নেতারা আজ বিচ্ছিন্ন। দেশে আজ আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই। সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই নতুন এই দল গঠন করলাম। দলের প্রতীক হলো ধানের ছড়া।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) একাংশের চেয়ারম্যান এম নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী মনি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান এ আর এম জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নাজমুল হুদা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন এই দলটি ব্যর্থ হয়েছে। নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে বিএনপির আর ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় নেই। এ সময় নাজমুল হুদা বলেন, বিএনপিকে ভাঙার জন্য নয়, দেশে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ও তৃণমূলে যে অবহেলিত নেতাকর্মী রয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনতে আমার এ উদ্যোগ। আমি চাই দেশে সুষ্ঠু ধারার গণতন্ত্র ফিরে আসুক।
নাজমুল হুদা বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপি এখন সরকারে কিংবা সংসদে নেই। আর হরতাল অবরোধের মতো কঠিন কর্মসূচিতে ব্যর্থ হয়ে অনেকটা পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই দলটি এখন নিষ্ক্রয় ও নিশ্চিহ্ন প্রায়।
তিনি বলেন, বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে আওয়ামী লীগ আগ্রাসী ভূমিকায় রয়েছে। মামলা-হামলা কিছু থেকে দলের নেতাকর্মীরা রেহাই পাচ্ছে না। দলের নেতৃত্বে অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাব, সিদ্ধান্তহীনতা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আর বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত কমিটি গঠনে ব্যর্থতায় দলটি আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।
মাঠ পর্যায়ে বিএনপির ‘ত্রাহি অবস্থা’ উল্লেখ নাজমুল হুদা বলেন, দল পরিচালিত হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে লন্ডন থেকে নির্দেশিত পথে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল স্বজন-বিরোধী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেই নয়, সরকারের মন্ত্রী গঠন এমনকি সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগেও বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তে নিকট আত্মীয়দের প্রচণ্ড প্রভাব প্রতিফলিত হতে দেখা গেছে।
তিনি আরো জানান, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দল গঠনে সরকার যদি সহযোগিতা করে আমি তা নেব। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এ দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তার দল অংশ নেবে কি না জানতে চাইলে নাজমুল হুদা বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না, মাত্র শুরু করেছি। তবে দলের কেউ যদি স্থানীয় নির্বাচন করতে চান আমার কোনো সমস্যা নেই।
প্রসঙ্গত যে, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর নাজমুল হুদা প্রথম গঠন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)। গমের ছড়া নিয়ে সে সময় কম বিতর্ক হয়নি। কিছুদিন যাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেই সে দল বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। তবে যাদের নিয়ে নাজমুল হুদা বিএনএফ গঠন করেছিলেন, তাদের একজন আবুল কালাম আজাদ ওই নামে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন নিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে রাজধানীর একটি আসনে এমপি হয়েছেন। বিএনএফ বিলুপ্তের কয়েক মাসের মাথায় নাজমুল হুদা বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি (বিএমপি) নামে আরেকটি দল গঠন করেন। সেবারও নিজেই দলটির চেয়ারম্যান হন। সেটিও কাজে না দিলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (বিএনএ) নামে একটি জোট গঠন করে সেটিরও চেয়ারম্যান হন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।
