একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করেছেন। শনিবার তারা এই আবেদন করেন বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে সকালে সালাউদ্দিন ও মুজাহিদের প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা-এই বিষয়ে জানতে কারাগারে গিয়েছিলেন দুই ম্যাজিস্ট্রেট।
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ঐ বছরের ২৯ অক্টোবর তিনি ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেন। চলতি বছরের ২৯ জুলাই আপিল বিভাগ সালাউদ্দিন কাদেরের আপিল খারিজ করে দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখে। এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন।
অন্যদিকে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই মুজাহিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালের এই ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে ঐ বছরের ১১ আগষ্ট আপিল করেন তিনি। চলতি বছরের ১৬ জুন বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। তিনিও এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দাখিল করেন।
সর্বশেষ আইনি লড়াইয়ে এই দুই নেতার রিভিউ আবেদন বুধবার খারিজ করে দেয় দেশের আপিল বিভাগ। পরদিনই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ খারিজের রায় লেখা শেষ করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এই রায়টি ১৩ পৃষ্ঠার। আর মুজাহিদের রায় লেখেন আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক। মুজাহিদের রায়টি ২৯ পৃষ্ঠার।
পরে রায় দুটিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর করেই রায় দুটি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা রায়টি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন। এরপর সেটি ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।
