যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষা চাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের উদ্বৃতি দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, ‘উনি (সালাউদ্দিন কাদের) মার্সি পিটিশন করবেন না। স্ত্রী ও ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছি, ওনার পক্ষে আপনারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না? তারা জানিয়েছেন, তাঁরাও মার্সি চান না। একইভাবে মুজাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তারা মার্সি পিটিশন করবেন না। তবে বিশেষ একটি আইনগত বিষয়ে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করবেন।
দুই পরিবারের সংবাদ সম্মেলনের এক ঘন্টার মধ্যে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দু’জন ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে গিয়ে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাইলে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন। বেলা তিনটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার সর্বোত্তম দেওয়ান প্রাণভিক্ষার আবেদন দুটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবের হাতে দেন।
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে অতি দ্রুত রাষ্ট্রপতির দফতরে প্রাণভিক্ষার আবেদন দুটি পাঠিয়ে দেয়া হবে। আইনমন্ত্রী কর্তৃক প্রাণভিক্ষার তথ্য প্রকাশের পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী আবেদনের বিষয়ে তারা অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার বাবা প্রাণ ভিক্ষার বিষয়ে তাদেরকে কোন কিছুই জানাননি। তিনি এমন লোক নন যে ফাঁসির ভয়ে বলে ফেলবেন, আমি গুনাহ করছি, মাফ করে দেন। এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, সব বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পর এখন বিভ্রান্তি তৈরী করতে দুই যুদ্ধাপরাধীর পরিবার রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের কথা বলছেন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের পক্ষে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন কাদেরের স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী জানান, মার্সি পিটিশন নয়, বিচার প্রক্রিয়ার ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হবে।
ক্ষমা প্রসঙ্গে হুম্মাম কাদের বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ বিষয়ে তার বাবা সিদ্ধান্ত জানাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনের পর রাষ্ট্রপতিকে লেখা একটি চিঠি বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বঙ্গভবনের চিঠিপত্র গ্রহণ শাখা তাদের সেই আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে।
মুজাহিদের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
দুপুর ১২ টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদন্ড কার্যকর স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে মুজাহিদের পরিবার। মুজাহিদের স্ত্রী তামান্না ই জাহান বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে আর্জি জানাই, তার বিরুদ্ধে একটা মামলা বিচারাধীন, সেই মামলা শেষ না হওয়ার পর্যন্ত আমাকে যেন আইনি লড়াই চালানোর অধিকার দেওয়া হয়। মুজাহিদের স্ত্রী বলেন, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই মামলায় নিজের পক্ষে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখেন। সম্পূরক চার্জশিটে একজন হত্যাকারী হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার কারণে মুজাহিদ সেই দায় থেকে মুক্তি পেতে চান।
মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বা সরকার থেকে বলা হচ্ছে, উনি মার্সি পিটিশন করেছেন। এটা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।
‘মার্সি পিটিশন’ ছাড়া আর কিছুর সুযোগ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল
দুই পরিবারের সংবাদ সম্মেলনের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আইনি সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর এখন আসামিদের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন ছাড়া অন্য কোনো আবেদন করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ এমন না যে, আসামি তার কাছে চিঠিপত্র লেনদেন করবে। উনি উনার নিকটাত্মীয়দের কাছে চিঠিপত্র লেনদেন করতে পারেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদের মামলা প্রসঙ্গে বলেন, যে পর্যন্ত উনি জীবিত থাকবেন, ওই সময় পর্যন্ত যত মামলা থাকবে, সবগুলোতেই উনি হাজির থাকবেন। উনি যখন জীবিত থাকবেন না, তখন দায়-দায়িত্বের বিষয় থাকে না। তিনি তখন এর ঊর্ধ্বে। তিনি বলেন, কোনো আসামির বিরুদ্ধে যদি পাঁচটিও মামলা থাকে, এর মধ্যে প্রথম মামলাটি যদি নিষ্পত্তি হয়ে যায় এবং তাতে যদি তার মৃত্যুদন্ড হয়, তাহলে বাকি মামলাগুলো তার ব্যাপারে অকার্যকর হয়ে যাবে। কারণ মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো রায় হয় না। কাজেই এই সব কথার অর্থ নেই ... এটা অযৌক্তিক কথা...এটা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।
