বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কিছু বিদেশি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে যে বাংলাদেশে নাকি বিরোধীমতের ব্যক্তিদের ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে। এমনকি দায়ী ব্যক্তিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য পিটিশন করেছিলেন। এতেই স্পষ্ট হয়েছে যে, বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলছে এবং তা আন্তর্জাতিক মানের। তাই আপনারা যারা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা প্রকৃতপক্ষে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের আইন-আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন।
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রমনা থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম। হাছান মাহমুদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার দেশে ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। তাই সমাজে ন্যায় ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে যুদ্ধাপরাধের মতো অবশ্যই আগুন-সন্ত্রাসের বিচার করার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচালের জন্য এবং পরবর্তীতে এ বছরের গোড়ার দিকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে দেশের মাটিতে অবশ্যই তাদের বিচার করা হবে।
এ সময় তিনি আরো বলেন, অ্যামনেষ্টি ও হিউম্যান রাইট ওয়াচের মতো কিছু সংগঠন বিএনপির মতো যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতি প্রদান করছে। অথচ যখন সাদ্দাম হোসেনকে যুক্তরাষ্ট্র ফাঁসি দেয় কিংবা যখন বিশ্বের অন্যকোন দেশে অপরাধীদের শিরশ্ছেদ কিংবা গুলি করে হত্যা করা হয় তখন এসব সংগঠন মুখে কুলুপ এটে থাকে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির মতো এরাও যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে একসাথে থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের এ প্রচার সম্পাদক বলেন, ঐক্যের কাছে সকল অপশক্তি পরাভূত হতে বাধ্য। তাই সবাইকে এক থাকতে হবে। ইনশাআল্লাহ বাকি সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হবে। রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন শাহে আলম মুরাদ, বলরাম পোদ্দার, এম এ করিম, অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।
