আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সালাউদ্দিন-মুজাহিদের ফাঁসির খবর

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৫, ১৫:৪৩
একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত  দুই যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছে। রোববার রাত ১২ টা ৫৫ মিনিটে এই দুইজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
 
আজ প্রথম প্রহরে দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিবিসি ওয়ার্ল্ডের ওয়েসবাইটে দীর্ঘ সময় এটিকে  প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে রাখা হয়েছে।  সাবেক এই দুই মন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে বিবিসি শিরোনাম করেছে-শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিল বাংলাদেশ। তাদের প্রতিবেদনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ছয়বারের নির্বাচিত সাংসদ ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং মুজাহিদকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দলের একজন শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
 
বিবিসি লিখেছে, একাত্তরে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যুদ্ধাপরাধের জন্য তাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছিলেন। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত এটি প্রধান খবর হিসেবেই বিবিসির হোম পেজে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
 
রয়টার্সের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের কারণে দুই বিরোধী দলের নেতাকে ফাঁসি দিল বাংলাদেশ। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য বিরোধী দুই নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে মুজাহিদকে বলা হয়, ইসলামপন্থী বিরোধী নেতা’; আর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপির সাবেক সাংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শনিবার মুজাহিদ ও সালাউদ্দিনের প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে করা আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করার কিছু সময় পর তাদের ফাঁসি দেওয়া হয়।
 
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার শিরোনাম- একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে মন্ত্রী ও সাংসদদের ফাঁসি দেওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নিরাপত্তা জোরদার। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়,  বাংলাদেশ রোববার প্রথম প্রহরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ১৯৭১ সালে দেশটির স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার যুদ্ধাপরাধের দায়ে দুই বিরোধী নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
 
 
কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন আল জাজিরার ওয়েবসাইটের শিরোনাম ছিল- বিরোধী দলের  ‍দুই নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো বাংলাদেশ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিনের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ করার কয়েক ঘণ্টা পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় প্রতিবেদনে মুজাহিদকে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী’ দল জামায়াতে ইসলামীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ‘প্রধান বিরোধী দল’ বিএনপির নেতা খালেদা জিয়ার একজন শীর্ষ সহযোগী ও সাবেক সাংসদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দুই নেতার ফাঁসি।
 
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার যুদ্ধের সময়কার পাশবিকতার দায়ে অভিযুক্ত বিরোধী দুই সিনিয়র নেতাকে রোববার ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।
 
IMG0
 
ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক হিন্দুর শিরোনাম দিয়েছে, বাংলাদেশে দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদকে দেশটির ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।
 
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতি প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিলে রোববার প্রথম প্রহরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
 
 
পশ্চিমবঙ্গের বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার তাদের শিরোনাম করেছে, ঢাকায় রাতেই ফাঁসি গণহত্যার দুই নায়ককে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সর্বোচ্চ আদালত আসামিদের আপিল খারিজ করে দেওয়ার পর দেরি করল না বাংলাদেশ সরকার। শনিবার রাতেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হল একাত্তরে গণহত্যার দুই নায়ক বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামাতে ইসলামির সাধারণ সম্পাদক আলি আহসান মহম্মদ মুজাহিদকে।
 
আনন্দবাজার লিখেছে, সাবেক খালেদা জিয়া সরকারের ‘দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী’ ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের  ও মুজাহিদ ঢাকায় বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যার মাথা মুজাহিদ ছিলেন খালেদার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। আর চট্টগ্রাম থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উজাড় করার নায়ক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় উপদেষ্টা।
 
পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন। তাদের শিরোনাম- প্রশ্ন সত্ত্বেও দুই বিরোধী দলের নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিরোধী দুই ‘প্রভাবশালী’ নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে বাংলাদেশ।
 
আইনি প্রক্রিয়ায় 'ত্রুটি’ এবং সহিংসতার হুমকির পরও তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদকে রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘একসঙ্গে ও একই সময়ে’ ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। জামায়াতে ইসলামী যে এক বিবৃতিতে সোমবার হরতাল ডেকেছে এবং দলটির অপর দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে  যে ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাও এসেছে এ প্রতিবেদনে।
 
এতে বলা হয়েছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দেশটির স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আর মুজাহিদ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন গণহত্যা, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ষড়যন্ত্র, নির্যাতন ও অপহরণের দায়ে।