ভারতের জঙ্গিবাদ বিরোধী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ইসলামিক স্টেট এখন সত্যিকারের আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন যারা আল কায়েদার জায়গা নিয়ে নিয়েছে। প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরে ইসলামিক স্টেট এর মুখপাত্র ‘দাবিক’ ম্যাগাজিনের মাধ্যমে ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়া থেকে জিহাদিদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে।
দাবিকের ১২ তম সংখ্যায় তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের মৃত্যুর খবর গোপন করায় আল কায়েদার সমালোচনা করা হয়। এছাড়া ইসলামিক স্টেটের বিভিন্ন অনলাইন প্রোপাগান্ডায় ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নাম অনেক বার এসেছে।
এখন পর্যন্ত ২৯ জন ভারতীয় ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসে যোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদের বড় একটি অংশ উপসাগরীয় দেশগুলোতে আগে থেকেই কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিল এবং এদের মধ্যে ছয়জন নিহত হয়েছে।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, যারা আইএসে যোগ দিয়ে দেশে ফিরবে তারা হয়তো অনেক তরুণকে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। এই কারণে ভারতীয় সরকার আইএস- এর মতাদর্শ যাতে ভারতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সম্পূর্ণ নতুন কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।
কারণ প্রচলিত নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো এই সমস্যা সমাধানে কাজে আসবে না। তাই মৌলবাদ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নীতিমালার পরিবর্তে যেসব তরুণ ও তরুণীর পরিবার ইসলামিক স্টেটসের মতাদর্শে বিশ্বাস করে বা অনলাইনের মাধ্যমে যোগ রাখে সেসব পরিবারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছে যাতে তারা এই তরুণদের সিরিয়া ও ইরাকে যাওয়া রোধ করতে পারে। এছাড়া তাদের অর্থনৈতিক কার্যাবলী এবং উপসাগরীয় এলাকায় ভ্রমণের কারণের দিকেও বিশেষ ভাবে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর এক সূত্রে জানা গেছে, সিরিয়া ও ইরাক থেকে ফেরত আসা গ্রেফতার হওয়া আইএস জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ভারত নিয়ে তাদের কী ভাবনা সেটা বুঝতে সহায়তা করেছে।
ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, ইসলামিক স্টেটসের কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। কারণ দারিদ্র দুরীকরণের জন্য ব্যবহৃত সম্পদ এখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে। গত মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আইএস গত কয়েক মাসে যা করছে তার প্রভাব পুরো সভ্যতার জন্য একটা বিপদ নিয়ে আসছে। এছাড়া বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রভাব মুদ্রা, পর্যটন ও বাণিজ্যে পুরো বিশ্বজুড়ে অনুভূত হবে।
