নিখোঁজ রাশিয়ান পাইলট বেঁচে আছেন

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৫, ২১:০২
 
তুরস্কের হামলায় বিধ্বস্ত রাশিয়ার যুদ্ধ বিমানের একজন পাইলট বেঁচে আছেন এবং সুস্থ আছেন। সিরিয়ার সেনা সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধারের পর তাকে সিরিয়ায় অবস্থিত রাশিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে। বিমানটিতে থাকা অপর পাইলট বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হয়েছেন।
 
তুরস্কের অভিযোগ সিরিয়ার বিদ্রোহীদের উপর বোমা হামলা চালানোর সময় রাশিয়ার যুদ্ধবিমানটি তুরস্কের আকাশ সীমায় ঢুকে পড়ে। এসময় তুরস্কের দিক থেকে বিমানটিকে ১০ বার সতর্ক করা হয়। এর এক পর্যায়ে বিমানটি লক্ষ্য করে এফ-১৬ ফাইটার জেট থেকে ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়।
 
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর রাশিয়ার মেরিন সেনাদের একটি দল সেখানে উদ্ধার অভিযান চালাতে গেলে ফের বিদ্রোহীদের গুলিতে এক রুশ সেনা নিহত হন। রাশিয়ার একটি হেলিকপ্টারও ধ্বংস করে সিরীয় বিদ্রোহীরা। পরে সিরিয়ার সরকারি বাহিনির সদস্যরা নিখোঁজ রুশ পাইলটকে উদ্ধার করে। 
 
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, সিরিয়ার আকাশে থাকাকালেই এসইউ-২৪ বোমারু বিমানটিকে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। 
 
এই ঘটনার ‘ফলাফল গুরুতর’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। তুরস্ককে আইএসের দোসর আখ্যা দিয়ে একে পিঠে ছুরি মারার সঙ্গে তুলনা করেছেন পুতিন। রাশিয়ার হুমকির জবাবে তুরস্কের পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগানকে ফোন করে বলেছেন, তুরস্কের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।
 
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের সঙ্গে সমস্ত সামরিক যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া। অনুরূপ হামলা ঠেকাতে মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পন্ন একটি ক্রুজার জাহাজ মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এছাড়াও সিরিয়ার আকাশসীমায় তুর্কি বিমানের প্রবেশ ঠেকাতে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করারও ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। রুশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এখন থেকে রুশ বোমারু বিমানগুলোকে আইএসবিরোধী হামলার সময় ফাইটার জেট দিয়ে পাহারা দেয়া হবে। 
 
 
গত অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে রাশিয়ার বিমানকে ন্যাটোর প্রথম কোন সদস্যরাষ্ট্র ভূপাতিত করলো। সূত্র: বিবিসি