তুচ্ছ ঘটনায় সাত মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় স্বামী বাপ্পী মিয়ার (৪৩) ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম ছাইফুল ইসলাম বুধবার দুপুরে এ রায় দেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানাগেছে, ১৯৯৯ সালে বগুড়া সদরের হটিলাপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে বাপ্পী মিয়ার সাথে শহরের জয়পুরপাড়ার আবুল হোসেনের মেয়ে কহিনুরের বিয়ে হয়। কহিনুর ৭ মাসের গর্ভবতী অবস্থায় ২০০০ সালের ১৪ জুন রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। এ সময় বাপ্পী লাঠি ও লোহার রড দিয়ে কহিনুরকে বেদম মারপিট করলে কহিনুর মারা যায়। পরে কহিনুরের লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ীর পাশের ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। ওই রাতেই বাপ্পী ও তার বাবা মা বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন লাশ উদ্ধারের পর নিহত কহিনুরের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে ১৬ জুন বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কহিনুরের স্বামী বাপ্পী, বাপ্পীর ভাই পাপ্পু ও টুটুল, টুটুলের স্ত্রী রানী বেগম এবং বাপ্পীর মা আরেফা বেগমকে আসামী করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মজিবর রহমান মামলাটি তদন্তকালে প্রধান আসামি বাপ্পী মিয়াকে গ্রেফতার করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ নভেম্বর বাপ্পী, তার ভাই পাপ্পু, মা আয়েশা বেগম এবং আরেক ভাই এর স্ত্রী রানী বেগমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করে। মামলাটি বিচারকালে দীর্ঘ শুনানি শেষে স্বামী বাপ্পী মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালত তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. আব্দুল বারী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. আব্দুল বাছেদ।
