সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মানবপাচার বন্ধসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত জেলা প্রশাসক-জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে বৈঠক বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাজশাহী সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের জেলখানার বন্দি প্রত্যাবর্তন, মাদকদ্রব্য এবং আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ ১০টি বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ভারতের দুইটি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারসহ চারজন এবং বাংলাদেশের ছয়টি জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঝিনাইদহ ব্যাটালিয়নের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন। বৈঠক শেষে দুপুরে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গনে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যগণ আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করেন।
এতে বাংলাদেশের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার এবং ভারতের দুই মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার প্রতিনিধি অংশ নেন। তবে বাংলাদেশের পক্ষে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ভারতের পক্ষে নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় ভারতী প্রেসি ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখেন।
ব্রিফিংয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বলেন, দু'দিনের বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে ১০টি বিষয়ে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই দেশের কারাগারের বন্দি প্রত্যাবর্তন, সীমান্ত খুঁটি চিহ্নিতকরণ, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ মাঝদিয়া স্থলবন্দর পুনরায় চালু, গেদে-দর্শনাহল্ট করিডর প্রশস্তকরণ, রাজশাহীতে সীমান্ত হাট স্থাপনে জমির সিএস রেকর্ড হস্তান্তর, মাদকদ্রব্য এবং আগ্নেয়াস্ত্রের চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধ উল্লেখযোগ্য। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
নদীয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় ভারতী বলেন, দুই দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মধ্যে গতবছর বাংলাদেশের জেলা প্রশাসক ও ভারতের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়, তার অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্যই আজকের বৈঠক। তিনি আরো বলেন, দুই দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপারে তাঁরা গুরুত্বারোপ করেছেন। এ জন্য স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা, যাতে বেশি মানুষ চলাচল করতে পারে। ভূমি সমস্যার সমাধান করা যায়। আর সে কারণেই বৈঠক শেষে দেশে গিয়ে তাদের জেএল নম্বরগুলো যাচাই করে সিএস রেকর্ড হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবেন ভারতীয় সীমানার ভেতরে অসাবধানতাবশত ঢুকে পড়া শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য বার বার বৈঠক করা, যৌথ টহলের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভারতীয় সীমান্ত এলাকার সাতটি ফেনসিডিল কারখানা ধ্বংস এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বিজয় ভারতী বলেন, ফেনসিডিলের কারণে দুই দেশের যুবকেরাই ধ্বংস হচ্ছে। এ নিয়ে আমরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি।’ বাংলাদেশের আতিথেয়তার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
