আন্তর্জাতিক মানের ও জীবনমুখী গবেষণায় নজর দেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৫, ২০:৩১
 
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি সফল গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত জ্ঞান মানবজাতির অশেষ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। চিকিত্সাসহ জীবনমান সহজ করতে পারে। এমনকি বিশ্বরাজনীতি, ভূ-অর্থনীতি, বিশ্ববাণিজ্য, আঞ্চলিক বা দেশীয় আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষণা যাতে আন্তর্জাতিক মানের হয় এবং জীবনমুখী ও মানবকল্যাণে নিবেদিত হয় সেদিকে সবিশেষ নজর দিতে হবে।’
 
বুধবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
 
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গবেষণার ফল যাতে লাইব্রেরিতে বন্দি না থেকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজে লাগে তা নিশ্চিত করতে হবে। খুলনা অঞ্চল রয়েছে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবন ও সামুদ্রিত সম্পদ সমৃদ্ধ বিশাল উপকূল। আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এ জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় মূল্যবান সম্পদ বিষয়ে গবেষণা জোরদারের আহবান জানাই।’
 

তিনি বলেন, শিক্ষক যখন তাঁর মহান আদর্শ থেকে দূরে চলে যান, তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে জ্ঞান ও বিতরণে শিক্ষকমন্ডলী নিবেদিত থাকবেন জাতি তা প্রত্যাশা করে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যে শিক্ষকদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি আরো মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান তিনি। আদর্শ শিক্ষক গবেষক জাতির মূল্যবান সম্পদ অনুসরণীয় আদর্শ। শিক্ষক-গবেষকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা ভবিষ্যত্ জাতি গঠনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজন, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও জ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগী শিক্ষকমন্ডলী, যারা নিজেরা নিরন্তর সর্বশেষ জ্ঞান চর্চায় রত থাকবেন এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করবেন। তবে বাস্তব অবস্থার নিরিখে দেখা যায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সর্বস্তরেই প্রয়োজনের তুলনায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অপ্রতুলতা রয়েছে। এ অবস্থা দূরীকরণে শিক্ষাঙ্গনে প্রকৃত শিক্ষানুরাগীদের নিয়োগের পাশাপাশি তাদের উচ্চতর গবেষণা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।’