নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করার অনুমতি চেয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার করা আবেদনের শুনানি চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। মামলাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার করা রিট আবেদন ও এ সংক্রান্ত রুল গত ১৮ জুন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে হাইকোর্ট ওই আদেশে বলেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে জামিন অপব্যবহার না করার শর্তে বিচারিক আদালত তাঁর জামিন বিবেচনা করবেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। বুধবার চেম্বার আদালতে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, শুনানির সময় আমি বলেছি, 'হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পণ করে তারপর আপিল করতে হবে। কারণ হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেননি। তাই আত্মসমর্পণের আগে তিনি আপিল করতে পারেন না। আদালত এ বিষয়ে দুই পক্ষকে আইনকানুন দেখে আসতে বলে শুনানি এ সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন।
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ৫ মে এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
পরে নাইকো মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও নিম্ন আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি রুল দেন হাইকোর্ট। ওই সময় থেকে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল। প্রায় সাত বছর পর চলতি বছরের শুরুতে মামলাটির কার্যক্রম আবার চালু করার উদ্যোগ নেয় দুদক। গত ১৯ এপ্রিল শুনানি শুরু হয় এবং ২৮ মে শেষ হয়। ১৮ জুন রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।
