প্রচারণায় নামতে চান এমপিরা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৫, ০০:০৩

পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণায় নামতে আগ্রহী সংসদ সদস্যরা! লেভেল  প্লেয়িং ফিল্ডের (সবার জন্য সমান সুযোগ) অংশ হিসেবে এমপিরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামতে আইন সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে; কিন্তু বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না এমপিরা। এমপিদের কিভাবে প্রচারণায় সুযোগ দেয়া যায় তা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন; কিন্তু এমপিদের এমন দাবির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হলেও আইনগত জটিলতার কারণে এই মুহূর্তে বিধি সংশোধনে রাজি নয় ইসি। এদিকে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে বিধি সংশোধন করা যায় কিনা- সে বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ইত্তেফাককে বলেন, গত মঙ্গলবার পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর বিধি সংশোধন করতে গেলে আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
 
গত রবিবার জারিকৃত সংশোধিত আচরণবিধিতে সরকারি সুবিধাভোগী হিসেবে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এবার নতুন করে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও এমপিদের প্রচারে নামার সুযোগ বন্ধ করা হয়। দেশে প্রথমবারের মতো এবার পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় মনোনীত প্রার্থী দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা মনে করছেন, নতুন আচরণবিধিতে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির চেয়ারপার্সন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতারা দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে এমপিদেরও বিধি-নিষেধের আওতায় পড়ে প্রচার কাজে বিরত থাকতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়েও যোগাযোগ করেছেন। এরই ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এমপিদের প্রচারে নামার সুযোগ দিতে গতকাল ইসিকে প্রস্তাব দেয়া হয়।
 
জানা গেছে, দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে কমিশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ এ বিষয়ে অন্য কমিশনারদের সঙ্গে আলাপ করেন। এরপর দুপুরে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ও যুগ্ম-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা) জেসমিন টুলী আইন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবসহ সরকারের নির্বাচন বিষয়ক একাধিক আইন বিষয়ক পরামর্শক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। 
 
বৈঠকে উপস্থিত একজন ইত্তেফাককে জানান, এমপিরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন। এজন্য এমপিদের প্রচারণায় সুযোগ দেয়া যায় কিনা তা ভেবে দেখা হচ্ছে। আইনি বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে; কিন্তু এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আরো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, শুরুতে কমিশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে এমপিদের প্রচারে নামার সুযোগ রাখা হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে এ নিয়ে আপত্তির কারণে বাদ দেয়া হয়েছে। তফসিলের পরে এই পরিস্থিতিতে এসে আচরণবিধি সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। এটা করতে গেলে নতুন তফসিল দিতে হবে।