বিজয় দিবসে আরো ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে ভারত

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৫, ১৩:৪২
বাংলাদেশ-ভারতের সুসম্পর্কের আরো একটি নজির স্থাপন হতে যাচ্ছে এই বিজয় দিবসে। ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশকে আরো ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে ভারত। 
 
বাংলাদেশের ৪৪ তম বিজয় উৎসবের প্রাক্কালে এই বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পদক্ষেপ  নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেশের পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে অবদান রাখবে। এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে বাংলাদেশে।
 
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের খরচ নির্ধারণের বিষয়ে নয়া দিল্লিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ও ভারতীয় কর্মকর্তারা যৌথভাবে পশ্চিম ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লার জেলার দক্ষিণ পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই বিদ্যুৎ লাইন দুইবার পরিদর্শন করেছেন। ভারত সরকারের প্রকৌশলীরা রাত দিন চেষ্টা করছেন ১৬ ডিসেম্বরের আগে এই কাজ শেষ করতে।  
 
ভারত সরকার ৩৭ মিলিয়ন ডলার খরচে  ৪০০ কেভি-র ডাবল সার্কিট এই লাইনটি তৈরি করবে এবং বাংলাদেশ সরকার পরবর্তীতে এই টাকা পরিশোধ করবে। বিদ্যুৎ সরবরাহের ১৮ কিলোমিটার ভারতে হবে এবং ২৯ কিলোমিটার হবে বাংলাদেশে। সবমিলিয়ে ১৪৩ টি ট্রান্সমিশন টাওয়ার বসানো হচ্ছে যার ৬৭ টি থাকবে ভারতে, ৭৬ টি বাংলাদেশে। 
 
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত জুনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে সফরে ত্রিপুরা দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। মোদী ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহকে ১,১০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করবে।
 
বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোক্তা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছিলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মোনারচাকে ১০১ মেগাওয়াটের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরে ত্রিপুরায় ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে।
ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কর্পোরেশন ত্রিপুরায় ৭২৬ মেগাওয়াটের এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে পালানতানায় অবস্থিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড়।  
 
গ্যাস ভিত্তিক পালানতানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতের আটটি উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাষ্ট্রের সাতটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতামূলক সম্পর্কের একটা উদাহরণ, কারণ দুর্গম এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করার সমস্ত রসদ ও ভারি যন্ত্র, টারবাইন বাংলাদেশের সড়ক ও জলপথের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দর থেকে নেয়ার অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।
 
এর আগে ভারত ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরের পরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে  চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল।