যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারির মধ্যেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোগান 'আগুন নিয়ে না খেলতে' রাশিয়াকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, একে 'পিঠে ছুরি মারা'র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে এরদোগান বলেন, 'চলমান উত্তেজনা নিরসনে প্যারিসে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে 'মুখোমুখি' বসতে চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু তুরস্ক ক্ষমা না চাওয়ায় পুতিন তা নাকচ করে দেন।'
তুরস্কের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার পর এবার ভিসাবিহীন যোগাযোগও বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তুরস্ক সফরে না যাওয়ার জন্য এর আগে দেশের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছিল, মিশরের মতোই তুরস্কেও রুশ নাগরিকরা সন্ত্রাসী ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তুরস্কের দাবি, বিমানটিকে যখন লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় তখন তা তুর্কি আকাশসীমায় অবস্থান করছিল। গতিপথ পরিবর্তন করতে পাইলটদের ১০ বার সতর্ক করা হয়েছিল। তবে রাশিয়া এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, বিমানটি সিরিয়ার আকাশসীমার ভেতরেই ছিল।
এরদোগান বলেন, 'আমি পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বসতে চাই। ইস্যুটিকে একটি গ্রহণযোগ্য যায়গায় নিয়ে যেতে চাই। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে তুরস্ক বিচলিত।' তিনি আরো বলেন, তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায়নি। তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাবরভ হুঁশিয়ার করে বলেছেন, বিমান ভূপাতিত করার ফলে তুরস্কের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মস্কোয় সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়ালেমের সঙ্গে বৈঠকে লাভরভ বেলেন, আমরা বিশ্বাস করি তুর্কি নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। এসময় তিনি আগামী বছরের প্রথম দিন থেকে ভিসা ছাড়া যাতায়াত সুবিধা বাতিক করার ঘোষণা দেন। সূত্র: বিবিসি
