ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শিবিরের আক্রমণের মুখে অবশেষে মুখ খুললেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, তার সরকারের একমাত্র ধর্ম ‘সবার আগে ভারত’ আর সংবিধান একমাত্র ‘পবিত্র ধর্মগ্রন্থ’।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সব শ্রেণি ও ধর্মের মানুষের উন্নয়নের জন্যই তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা ইস্যুতে ভারতীয় সংবিধানের কোনো ধরনের পর্যালোচনা প্রস্তাবও নাকচ করে দেন মোদী। তিনি বলেন, তার সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার পক্ষপাতী নয়। বরং ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করায় বিশ্বাসী।
ভারতের লোকসভায় দেশটির সংবিধান ইস্যুতে দুই দিন ধরে চলমান বিতর্কে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন মোদী। এসময় কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ ভারতজুড়ে চলমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার ব্যাপারে মোদীর নীরবতার অভিযোগ তোলে।
এর জবাবে মোদী বলেন, বৈচিত্র্যই ভারতের শক্তি এবং এর পরিচর্যা করতে হবে। এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সরকারের একমাত্র ‘ধর্ম’ হল ‘সবার আগে ভারত’ আর একমাত্র ‘ধর্মগ্রন্থ’ সংবিধান।
ভারতের উন্নয়নে পূর্ববর্তী কোনো সরকারের অবদানই অস্বীকার করা যাবে না উল্লেখ করে মোদী বলেন, ‘কেউই বলতে পারবে না যে, তাদের আগের সরকারগুলো এ দেশের জন্য কিছুই করেনি’।
ভারতীয় সংবিধানের স্থপতি হিসেবে খ্যাত ভীমরাও আম্বেদকরের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লোকসভার ওই বিতর্ক ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মোদী বলেন, ভারত কোনো ‘মহারাজাদের’ তৈরি নয় বরং এর সরকার ও সাধারণ জনগণই তিলে তিলে এই ভারতকে গড়ে তুলেছেন। আর ভারতের সংবিধানের মতো একটি সংবিধান তৈরি করা সহজ কাজ নয়।
মোদী বলেন, আজকের আলোচনার মূল চেতনা, ‘আমরা’ ধারণা; শুধু ‘আমি’ বা ‘তুমি’ ধারণা নয়।
