আইএস বিতাড়নের পর সিরীয় শহরে স্বাভাবিক জীবন

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৫, ১৮:২১
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর আলহোল। শহরটির একটি বাড়ির সামনে চার বছরের বেদা নামের এক কন্যা শিশু একটি লিফলেটের ওপর আঁকিবুঁকি খেলছিল। লিফলেটটি জিহাদি গ্রুপ ইসলামিক স্টেটের, যারা চলতি মাসের প্রথম দিকে শহরটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
 
শিশুটির মুখ প্রসাধনী মাখানো। যা আইএস নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় শহরটিতে ভাবাই যেত না। মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সহায়তায় কুর্দি ও আরব বাহিনী চলতি মাসের ১২ তারিখ আইএসকে শহরটি থেকে বিতাড়ন করে। নগরবাসী এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
 
এর আগে গত জুনে প্রথমবারের মতো কোবানি ও তাল আবায়েদ নামের দুটি শহর আইএস এর কবল থেকে উদ্ধার করা হয়।
IMG0
বেদার বাবা হামদান আহমেদ আইএসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমার ছোট্ট মেয়ে চোখে সুরমা এবং মুখে প্রসাধন মেখেছে। কিন্তু আইএসের কাছে এসব নিষিদ্ধ ছিল’।
 
তিনি আরো বলেন, আইএস এ গ্রামে না থাকায় আমি খুবই খুশী। দুবছর আগে আইএস আলহোলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। কিন্তু ৩৯ বছর বয়সী আহমেদ তার শহরের আলসালাল এলাকার বাড়ি ছেড়ে যাননি। ফলে তাকে আইএসের ধর্মীয় কড়া নিয়ম-কানুন মানতে হয়েছিল।
 
তখন নারীদের নিজের বোরখায় আবৃত করা এবং পুরুষদের দাঁড়ি রাখা ছিল বাধ্যতামূলক। আইএস পরিচালিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২ বছরের নিচের ছেলে-মেয়েদের পাঠাতে বাবা-মায়েদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। না পাঠালে শাস্তি হিসেবে চাবুক মারা হতো।
IMG1
শহরের অন্য একটি এলাকায় ৪২ বছরের মারিয়াম ভেড়ার পালকে খাওয়াচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের গুদাম ঘরে গোলা পড়ার পর আমরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাই। আমাদের খাবার কিছু ছিল না। আইএস এখন অনেক দূরে। তবুও মারিয়াম ভীত। কারণ তার মনে হচ্ছে এই বুঝি আইএস এসে তাকে বোরখা পরতে বাধ্য করবে। তিনি বলেন, আইএস এখানে থাকতে কোনো নারী যদি নিজেদের আবৃত না করে বাড়ির বাইরে যেতেন তাহলে তাকে চাবুক মারা হতো।
 
আইএস চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা বাড়ি ফিরছেন এবং চাষবাসে মন দিচ্ছেন। এলাকাটির অধিকাংশ অধিবাসীই কৃষিজীবী।
 
৪৪ বছরের হামিদ নাছের বলছেন, গত দু’বছর আমি আমার জমি চাষ করতে পারিনি আইএসের জন্য। কারণ আমরা বীজ ও তেলের মতো প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাচ্ছিলাম না। সূত্র: এএফপি