‘পাটজাত মোড়ক নিশ্চিতে সোমবার সারাদেশে অভিযান’

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৫, ১৭:১২
 
পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোমবার থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। রবিবার সকালে সচিবালয়ের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এই কথা জানান।
 
মির্জা আজম বলেন, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন-২০১০ আইনটি পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণমুক্ত হবে এবং স্থানীয় বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।
 
তিনি বলেন, এতে দেশের পাট চাষীদের পাটের ন্যায্যমূল্য যেমন নিশ্চিত হবে তেমনি পাটের উত্পাদন বৃদ্ধিসহ পাট শিল্পও রক্ষা পাবে।
 
মির্জা আজম বলেন, এই আইনটি ২০১০ সালে প্রণীত হলেও তা পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। এই নির্ধারিত সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পর বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই আইনটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে বৈঠক করা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, সে বৈঠকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময়-সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। যা আজ শেষ হচ্ছে।
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোমবার থেকে পরিচালিত অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের দশজন যুগ্ম-সচিবের নেতৃত্বে দশটি টিম গঠন করা হয়েছে এবং এই আইনটি মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এ অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
 
এই বিষয়ে তিনি বলেন, এই অভিযান সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে এবং এই টিম জেলা প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবে।
 
মির্জা আজম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার কোথায় কোথায় অভিযান পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সেভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
 
আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার না করে কৃত্রিম মোড়ক দিয়ে কোন পণ্য বা পণ্য সামগ্রী মোড়কজাত, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করলে বা করবার অনুমতি প্রদান করলে তাকে কমপক্ষে এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
 
কোথায় কোথায় এবং কতদিন পর্যন্ত এই অভিযান চলবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজধানীর প্রবেশপথ, মহাসড়ক এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই অভিযান পরিচালিত হবে এবং আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
 
এসময় বস্ত্র ও পাট সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন ও বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (অব.) ব্রিগেডিয়ার হোসেন খালিদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।-বাসস।