জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসছেন। আগামী ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নবম ইন্দো-জাপান সম্মেলনে যোগ দিতে আবে ভারত সফরে আসবেন। ২০১৪ সালে নির্বাচনের পর এটিই আবে সরকারের প্রথম বিদেশ সফর। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী টোকিওতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিয়েশিদা এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী জয়শঙ্করের এক বৈঠকের পর এ সফরসূচি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির অন্যতম এই দুই মোড়লের সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তার ভারত সফরে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে অন্যতম বলয় তৈরি করবেন। ভারতে জাপান সামরিক সরঞ্জামাদি এবং এয়ারক্রাফট সরবারহের সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়ও থাকছে। কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা কিয়োডো বলেছে, জাপান সম্প্রতি তৈরি করা ইউএস-২ নামক একটি উচ্চ বিলাসী বিমান বিক্রি করতে পারে। জাপানের দ্রুততম ট্রেন ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তি ভারতে চালু হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অবশ্য এই সফরে সবচেয়ে বড় ইস্যু ধরা হচ্ছে দক্ষিণ-এশিয়ার সন্ত্রাস দমন এবং চীনের সাম্প্রতিক জলসীমা লঙ্ঘন ইস্যু। ইতোমধ্যে ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা যৌথভাবে ভারতের সাগরে নৌ-প্রশিক্ষণ শুরু করেছে।
তবে কয়েকদিন আগে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিয়োশিদা মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের হাইকমিশনগুলোতে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ গোয়েন্দা নিয়োগের ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলার প্রেক্ষিতে আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে এ চার এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি গোয়েন্দা দল সন্ত্রাস তৎপরতা নিয়ে কাজ করবে।
