দুর্নীতির আরও একটি মামলায় সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। রবিবার ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ এন আতোয়ার রহমান এই অভিযোগ গঠন করেন। আসামি সাদেক হোসেন খোকাকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরুর এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ মামলার অপর তিন আসামি হলেন বনানী ডিসিসি ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ, সভাপতি আবদুল বাকের নকী এবং বনানী সুপার মার্কেটের ব্যবস্থাপক এইচ এম তারেক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি সাদেক হোসেন খোকা মেয়র থাকাকালে পরোক্ষভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হন বা অন্যকে অর্থাৎ বনানী ডিসিসি ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতিকে আর্থিকভাবে লাভবান করানোর অবৈধ ব্যবস্থা করেন। এভাবে ৩০ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৯ টাকা আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিসিসির বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্সের বেজমেন্টের কার পার্কিং ইজারার জন্য ২০০৩ সালের দরপত্র আহ্বান করেন। এতে অংশগ্রহণ করা চারটি দরপত্রের মধ্যে মিজানুর রহমান নামে জনৈক ব্যক্তি বার্ষিক এক লাখ ১০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে সাদেক হোসেন খোকা অপরাপর আসামিদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে ইজারার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সাল হতে ফেব্রুয়ারি ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩০ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৯ টাকা ক্ষতি করেছেন।
মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক নূর হোসেন খান ২০১২ সালের ৭ নভেম্বর সাদেক হোসেন খোকাসহ এই চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এর আগে ২০ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৭ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। খোকার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে অবৈধভাবে অর্জিত সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, আসামি খোকা ১০ কোটি পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকা ৫৪ পয়সা অসৎ উপায়ে অর্জন করে নিজ দখলে রেখেছেন। ওই টাকার সমমূল্যের খোকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।
খোকা পলাতক থাকায় তাঁর আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে বা গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার তারিখ থেকে দণ্ডভোগের মেয়াদ ধরা হবে। খোকার বিরুদ্ধে দণ্ড পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, দুর্নীতি দমন আইনে ২৬ (২) ধারার অপরাধে আসামি খোকাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৭ (১) ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালের ২ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক শামসুল আলম রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত করে দুদক ২০০৮ সালের ১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। গত বছরের ৩০ অক্টোবর খোকার বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন আদালত। এই মামলার মোট ৪৩ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ৪০ জনকে আদালতে উপস্থিত করেছে।
