নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার হত্যা মামলাটির অধিকতর তদন্ত চেয়ে করা আবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের ডিভিশণ বেঞ্চে রবিবার এ আবেদনের ওপর আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।
গত বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়। অপহরণের পরদিন নিহতের পরিবারের সদস্যরা দুটি মামলা দায়ের করেন। পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। অপহরণ ও খুনের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরেই এই মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান। পরে সেখানে গিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হন তিনি। ফলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের কোন সুযোগ ছিলো না। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই সাত খুন মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
এদিকে এই হত্যা মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন জানিয়েছিলেন মামলার বাদি নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে বাদ দিয়ে এই অভিযোগপত্র দাখিল করায় এই নারাজি আবেদন দেওয়া হয়। বাদির করা দুটি আবেদন খারিজ করে দেয় নিম্ন আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে নূর হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্তের অনুমতি প্রার্থনা করা হয়।
আবেদনকারীর আইনজীবী মন্টু ঘোষ শুনানিতে বলেন, দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়েছে। মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে সরকার বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে নূর হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলো হয়তো আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। একারনে মামলাটি যদি আরেকটু ভালোভাবে তদন্ত করে দেখা হয়, তাহলে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হত।
এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আবেদনকারীর উদ্বেগ যথার্থ। তবে বেশি লম্বা করতে গিয়ে মামলাটি যেন আবার পথ হারিয়ে না ফেলে। এরপর হাইকোর্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে। এছাড়া অভিযোগপত্র দাখিলের পর কোন আসামিকে ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ আছে কি না, এ-সংক্রান্ত বিধি-বিধানও জেনে আসার জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেয় আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
