তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে রবিবার ৩০০ কোটি ইউরোর (৩২০ কোটি মার্কিন ডলার) একটি ‘ঐতিহাসিক’ সহায়তা চুক্তি হয়েছে। ইউরোপে সিরীয় শরণার্থী ও অন্যান্য অভিবাসন প্রত্যাশীদের স্রোত ঠেকাতে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এ চুক্তি হয়েছে।
ইইউ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, তুরস্কে অবস্থানরত ২২ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে ইউরোপে প্রবেশ ঠেকানোর বিনিময়ে দেশটির ইইউ’র সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হবে। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেত দেভুতোগলু বলেন, এটি একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’।
তার দেশ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন। যদিও ২৮ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্র এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছে।
এই সংকট মোকাবেলায় আঙ্কারা এরই মধ্যে ৮০০ কোটি ডলার খরচ করে ফেলেছে। টাস্ক দাবুতোগলু ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জেন-ক্লাউডের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তুরস্ক হয়ে ইউরোপে শরণার্থীদের প্রবেশে বাধা প্রদান উদ্ভূত পরিস্থিতি পরিবর্তনে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ হবে বলে আশা করছি’।
সাবেক এই পোলিশ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা তুরস্কে সিরীয় শরণার্থীদের সহায়তা বৃদ্ধি করব’।
তুরস্ক এই চুক্তি শর্ত পূরণে কতখানি অগ্রসর হয়েছে তা অন্তত এক মাস পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তুর্কী প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা শুধু তুরস্কের একার বা ইউরোপের সমস্যা নয়, এই মানবিক সংকটের জন্য তুরস্ক বা ইউরোপীয় ইউনিয়নই শুধু দায়ী নয়।
চুক্তি অনুসারে তুরস্কের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ইউরোপের শেনজেন জোনের দেশগুলোতে ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে তুরস্ককে শর্তসাপেক্ষে এইসব সুবিধা দেয়া হবে। এই বছর ৭ লাখের বেশি অভিবাসন প্রত্যাশী ইউরোপে প্রবেশ করেছে। এদের বেশিরভাগই তুরস্কের মধ্য দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢুকেছে। এদের অনেকেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসেছে। বর্তমানে এরা তুরস্কের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই পেয়েছে।
