পার্বত্য শান্তিচুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৫, ২০:১২

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আমি জানি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির হাত এগিয়ে আসছে। তবে এক্ষেত্রে সরকার কিছুটা পিছিয়ে আছে। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। চুক্তি বাস্তবায়নে এ দু’হাতকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতে যেসব বিষয় অনিষ্পন্ন রয়েছে, পাহাড়ে শান্তি আনতে সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ’র সহযোগিতায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে নীতি-নির্ধারণী সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বের প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


পাহাড়ি উপজাতি সম্প্রদায়ের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা, উৎসব, ধর্মীয় রীতিনীতি আলাদা উল্লেখ করে ইনু বলেন, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য রক্ষার্থে পার্বত্য জেলা ও উপজেলাগুলোতে স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় শিক্ষাঙ্গনের পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষা ইনিস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেমিনারে আলোচনা পর্বের প্রধান বক্তা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শান্তিচুক্তি বিরোধীরাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলো। বর্তমান সরকার সংবেদনশীল। সে কারণে আলোচনা করছে। আইন করতে খুঁটিনাটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সরকার চুক্তি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। চুক্তি বাস্তবায়নে সময় কাঠামো নির্ধারণ করে কাজ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সময় কাঠামো দরকার। বিভিন্ন বিভাগ হস্তান্তর যাতে সময় কাঠামোর মধ্যে হয়, সে বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।


এর আগে আলোচনার প্রথম পর্বে বক্তব্যদানকালে বেসাময়িক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনই পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা আছে। তিনি বলেন, শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পার হয়েছে। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটেছে। আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়া অব্যহত। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবায়নে বাধা আছে।

 

মেনন বলেন, ‘১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে বিএনপি-জামায়াত প্রচার করেছিলো, যদি শান্তিচুক্তি হয় তাহলে পার্বত্য অঞ্চল ভারতের অংশ হয়ে যাবে। তারা শুরু থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের শান্তি মেনে নিতে পারেনি। যখনই ভালো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তারা তার বিরোধিতা করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে আলোচনা আরো সহজ হবে। উপজাতি বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার  সে সময়ে  যে  মেধা ও দৃঢ়তা দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এখন সর্বশক্তি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নকে জাতীয় লড়াইয়ের রূপ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান মেনন।


সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্য যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা বলেন, চুক্তির কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে। যা হয়নি তার জন্য এতো দীর্ঘ সময় লাগার কথা না। চুক্তির দু’টি পক্ষই এখনও আছে। কিন্তু তাদের মধ্যকার দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি-না  সেটাই আমার প্রশ্ন।


আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাস আয়োজিত আলোচনা সভার প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য ফজলে হাসান বাদশা আর দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল করিম। আলোচনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. আবদুল্লাহ আল ফারুকী। এছাড়া, সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন কবি কাজী  রোজী, মিস হাজেরা সুলতানা, নাজমুল হক, টিপু সুলতান প্রমুখ।


সমাবেশে ভূমিবিরোধ সমস্যার সমাধান ও আদিবাসীদের ক্ষমতায়নের দিকেও  জোর  দেন বক্তারা। পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তরা দ্রুত পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ফোকাস বাংলা