প্যারিসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বলি হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি: মঞ্জু

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৫, ২০:৫৫

প্যারিসে চলমান জলবায়ু সম্মেলনের এক বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘আমরা প্যারিসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বলি হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি। আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে এমন কোনো বিষয়েই আমরা একমত হব না।' জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির হুমকিতে থাকা দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ক্লাইমেট ভালনারেবল গ্রুপের এক বৈঠকে একথা বলেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

 

গত সোমবার প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের প্রথমদিনেই ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনোর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। গত ৩০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

সোমবারের বৈঠকশেষে জলবায়ু বিপর্যয় ঠেকাতে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আরো ব্যাপকভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছে ক্লাইমেট ভালনারেবল গ্রুপ। বিশ্ব তাপমাত্রা যেন প্রাক শিল্পযুগের চেয়ে মাত্র ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবানও জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে বিশ্বের ধনী দেশগুলো এই সীমা নির্ধারণ করতে চায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এই বিষয়টি এবারের জলবায়ু সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

 

২০১০ সালের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক শিল্পযুগের চেয়ে মাত্র ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে এই সীমা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করার দাবি উঠতে থাকে।

 

এদিকে, গত সপ্তাহে বিশ্ব আবহাওয়া সংগঠন (ডব্লিওএমও) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই বিশ্ব তাপমাত্রা প্রাক শিল্প যুগের চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির মাইলফলক অতিক্রম করবে।

 

সোমবারের বৈঠকে অনুমোদিত একটি ঘোষণাপত্রে ক্লাইমেট ভালনারেবল গ্রুপ বিশ্ব সম্প্রদায়কে ২০৫০ সালের মধ্যেই জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে শুধুমাত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপরই পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছে। এই প্রথম কোনো সংগঠন এই ধরনের উচ্চাভিলাষী প্রস্তাবনা হাজির করল।

 

তবে ভারতসহ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ অবশ্য বলেছে, তারা অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরনকারী জ্বালানি থেকে খুব সহজেই বের হয়ে আসতে পারবে না। কারণ এই জ্বালানি খুবই সস্তা। যা তাদের জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান অংশকে দারিদ্র থেকে মুক্ত করার চলমান লড়াইয়ে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

 

অন্যদিকে, ১০০টিরও বেশি দেশ বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই সীমিত রাখার বিষয়টিকে ভবিষ্যতের জন্য মুলতবি রাখার ব্যাপারেই মত দিয়েছে। সূত্র: এএফপি