গতবছর নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলতি মৌসুমে ফের লবণ উত্পাদনে নেমে পড়েছেন চাষিরা। এবার চকরিয়া উপজেলা ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার আংশিক এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে ১৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বর মাস থেকেই উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় লবণ চাষ শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মোকামে নতুন লবণ উত্পাদনও শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে লবণ উত্পাদনের শুরুতেই রাজধানী ঢাকায় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র লবণ আমদানিতে ফের তত্পর হয়ে উঠেছে। বিদেশ থেকে তারা এক লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানি করতে নানাভাবে তোড়জোড় শুরু করেছে। গত বুধবার ঢাকায় লবণ আমদানির বিষয়টি নিয়ে ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ভারত থেকে ফের লবণ আমদানির বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ খবর মাঠ পর্যায়ে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ লবণ চাষি সমিতির সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, উত্পাদিত লবণে দেশের চাহিদা মিটিয়ে মজুদ থাকার পরও প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সরকারের উচ্চমহলে বারবার ভুল তথ্য দিয়ে সংকটের মিথ্যা অজুহাত তুলে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির চেষ্টা করে আসছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লবণ চাষি সমিতির কর্মকর্তারা অবিলম্বে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির এই অপচেষ্টা বন্ধের মাধ্যমে দেশীয় লবণ শিল্পকে রক্ষা করতে সরকারের সংশ্লিষ্টমহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
