বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনায় নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের অংশগ্রহণে গত ২৩ নভেম্বর জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে হয়ে গেল জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্ট-এর দ্বিতীয় আয়োজন ‘বাংলাদেশে প্রাচ্য শিল্পের বিস্তার’ শিরোনামের চিত্রকলা প্রদর্শনীর। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গত্তহর রিজভী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অধ্যাপক হাশেম খান, স্থপতি রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। প্রাচ্যকলার এই চিত্রপ্রদর্শনীতে মোট ১২২জন শিল্পীর ১৭০টি শিল্পকর্ম গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়। এই বিশাল আয়োজনে প্রাচ্যধারার বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে জল রং শিল্পকর্ম দর্শকদের আকৃষ্ট করে।
ওরিয়েন্টাল আর্ট বা প্রাচ্যকলা বলতে নিকটপ্রাচ্য ও দূরপ্রান্তের শিল্পকলাকে বোঝানো হয়। প্রাচীনকালে প্রাচ্য দেশিয় (চীন, জাপান, কোরিয়া ও ভারত) ধর্ম, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে ওরিয়েন্টাল আর্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং যথারীতি প্রাচ্যকলায় প্রাচ্যের ধর্মের (হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও ইসলাম) প্রভাব ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু ভারতে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার ফলে প্রাচ্যকলার অগ্রযাত্রা কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়েছিল, তবে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নন্দলাল বসুর উদ্যোগে কলকাতায় গড়ে ওঠা ‘বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট’-এর মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিল্পের আগ্রাসন অনেকটাই রোধ করা যায়। অবশেষে কলকাতায় চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষাপ্রাপ্ত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৪৮ সালে ঢাকায় (তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান) গভ. আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৯৫৫ সালে ‘প্রাচ্যকলা বিভাগ’ চালু করা হয়। আর এভাবেই শুরু হয় বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রাচ্যকলা বা ওরিয়েন্টাল আর্টের চর্চা।
লেখক :সহযোগী অধ্যাপক, প্রাচ্যকলা বিভাগ, ঢা.বি.।
