শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৪৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ঘোষণা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:২৭

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কাছে নতুন প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদেরই এসব কাজ মানসম্মতভাবে করতে হবে। এতে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না’। তিনি শনিবার সকালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির জাতীয় সম্মেলন ২০১৫ ও ২১তম কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।


রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা সচিব এএস মাহমুদ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা ও আইডিইবি’র সভাপতি একেএমএ হামিদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিপ্লোমা প্রকৌশল সমিতির সভাপতি মো: আমিনুল ইসলাম ভূঞাঁ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ‘আমাদের কথা’ শীর্ষক বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন সমিতির সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন।


সমিতির পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী (জিপিএ ৫ প্রাপ্ত) প্রকৌশলীদের ৬৩ মেধাবী সন্তানের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদেরকেও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।


শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকা থেকে ২০টি করে প্রতিষ্ঠানের নাম নেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে যেখানে কোনো ভবন নেই এমন ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং যেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি আছে তেমন ১০টি প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, তিনশ সংসদীয় এলাকায় ২০টি করে মোট ৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের লক্ষ্যে এ ৪৭ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেড় হাজার কলেজে ভবন বর্ধিতকরণ ও নতুন ভবন নির্মাণের একটি সংশোধিত প্রকল্পও সম্প্রতি পাস হয়েছে। ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় যেসব কলেজে ২ বা ৩ তলা ভবন আছে, সেগুলো ৫ বা ৭ তলা হবে। প্রয়োজনে আরো উঁচু নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।


শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় তিন হাজার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করেছে। তাতে সরকারের প্রায় ২ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সেইসঙ্গে সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কলেজ ভবন নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৮শ কোটি টাকা এবং মাদরাসা ভবন নির্মাণে ৯শ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।


আগামীতে ভবন নির্মাণে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী প্রকৌশলীদের ভবন নির্মাণে এমন নকশা করার পরামর্শ দেন যেন জলাধারের ব্যবস্থা থাকে। তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সোসাল সিস্টেম এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের জন্য যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, সে পদ্ধতিতেই নকশা তৈরিরও আহবান জানান।


শিশু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার মতো ভবন নির্মাণের তাগিদ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবে নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে ভবন নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। দরজার কবজা, ক্লাসরুমের বৈদ্যুতিক সুইচ, বাথরুমের কল ইত্যাদি সামগ্রী ভালো মানের ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে তিনি প্রকৌশলীদের সার্বক্ষণিকভাবে প্রকল্প স্থান পরিদর্শনেরও পরামর্শ দেন।


প্রত্যেক উপজেলায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস খোলা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে জেলাভিত্তিক শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা অবকাঠামোর নির্মাণকালীন তদারকি অত্যন্ত কঠিন। এ কারণে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা টিএনও কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে দ্রুত অফিস খোলার নিদের্শ দেয়া হয়েছে।


শিক্ষামন্ত্রী অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বলেন, ফ্যাসিলিটিজ বিভাগকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে উন্নীত করায় কেবল কাজের পরিধি বেড়েছে তা নয়, ভাবমূর্তির ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। নির্মাণকাজে দৃশ্যমান সচ্ছতা নিশ্চিত করে এ ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহবান জানান।


ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদোন্নতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মদক্ষতা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে সকলের প্রমোশন হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলীর ৪৬টি পদে দ্রুত পদোন্নতির জন্য আগামীকালই একটি কমিটি করা হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। বাসস