জাতীয় প্রারম্ভিক শৈশব উন্নয়ন সম্মেলন-২০১৫ এর আহ্বান

শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশে সমন্বিত নীতি বাস্তবায়ন জরুরি

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:৪১
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, দেশের একটি শিশুও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। শিশু শিক্ষা এবং বাল্য বিবাহ রোধকল্পে কাজ করছে সরকার। কারণ দেশের সকল শিশুকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়তে পারলে আমরা ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারব। তিনি বলেন,বর্তমান সরকার বাংলাদেশে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যু হাজারে ৪১ জন এবং ইনফেন্ট মরটালিটি হাজারে ৩২ জনে নামিয়ে এনেছে।
 
রবিবার রাজধানীর গুলশানে স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ আরলি চাইল্ডহুড ডেভেলেপমেন্ট (ইসিডি) নেটওয়ার্ক বেন আয়োজিত জাতীয় কনফারেন্সে ২০১৫ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন। গণসাক্ষরতা অভিযান-এর নির্বাহী পরিচালক এবং  প্রাক্তন উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি,অতিরিক্ত সচিব বিকাশ কিশোর দাস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ লুইস মনো, সেভ দ্যা চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর এলিজাবেথ পারসি প্রমূখ।
 
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিশুর শারিরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে শুণ্য থেকে ৮ বছর বয়সকালটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুর ৭০ শতাংশ বিকাশ সাধিত হয়। শিশুর এই বিশেষ সময়কে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ইসিডি প্রণয়ন করেছে। জাতিসংঘের এসডিডি-তে ইসিডিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সরকার শিশু নীতি, ও শিশু আইন প্রণয়ন করেছে। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে।
 
নাসিমা বেগম এনডিসি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশবিষয়ক সমন্বিত নীতি শিশুর যত্ন ও বিকাশের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন। তিনি শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য শিশুএকাডেমীর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন শিশুকে সঠিক শিক্ষা দেয়ার জন্য পরিবারকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই নীতির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন এখন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
মিজ লউস মনো বলেন, বাংলাদেশ এমডিজি-তে নারী ও শিশু সম্পর্কিত সুচকগুলোতে সফল হয়েছিল যার জন্যে বাংলাদেশ জাতিসংঘ এমডিজি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। আশা করছি বাংলাদেশ এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) অর্জনেও সফল হবে। তিনি আরও বলেন, অর্থ বরাদ্দের চাইতে অর্থের যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিশুর ডেভেলপমেন্টে অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও স্বচ্ছতার প্রতি গুরুত্বরোপ করেন।
 
অনুষ্ঠানে ইসিডি বিষয়ক তিনটি পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সকল ছেলে এবং মেয়ে শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাক-শৈশব যত্ন ও বিকাশ এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি এবং অপরিহার্য বলে অংশগ্রহণকারীগণ মতামত ব্যক্ত করেন।
 
শিশুদের ৮ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা, যত্ন, উন্নয়ন, সুরক্ষা এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের উপর বক্তাগণ গুরুত্বারোপ করেন।
 
এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণে নীতি বাস্তবায়নের জন্য কাঠামো ও কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক এ সম্পর্কিত নীতিমালা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিগণ অভিমত ব্যক্ত করেন।