‘গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় শতাংশে রাখতে সকল রাষ্ট্রের প্রচেষ্টা দরকার’

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:০১
 
 
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় শতাংশে রাখতে সকল রাষ্ট্রকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। কাজটি অসম্ভব না হলেও এ বিষয়ে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
 
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কাছে দূষন কমানোর চেয়েও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় অর্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আসুন আমরা সবাই এক সঙ্গে এটা নিয়ে চিন্তা করি এবং প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করি।
 
সোমবার প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের আহ্বানে যোগ দেয়া এক বৈঠকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন।
 
প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আল গোর এখন পরিবেশ সচেতনতার জন্য পরিচালিত কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করেছেন। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন শেষ হওয়ার প্রাক্কালে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদের ভাবনার সম্মেলন করতেই এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য ফিউচার’ নামের জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ বিষয়ক কমিটি। এর আগে গত বছর পেরুর লিমাতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনেও এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
 
বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পাঠানো এক আমন্ত্রণপত্রে আল গোর বলেন,  জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধির উপস্থিতি বিশেষভাবে কামনা করা হচ্ছে।
 
প্যারিসের ব্লু জোন হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশাপাশি নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও এই বৈঠকে যোগ দেয় ব্রাজিল, নেদারল্যান্ড, চিলি, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ত্রিনিদাদ, কঙ্গো, মেক্সিকো, কানাডা, গ্রেনাডা, মার্শাল আইল্যান্ড ও কোস্টারিকার প্রতিনিধিরা।
 
এদিকে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন থেকে যাতে একটি কার্যকরী চুক্তি বের হয়ে আসে সেজন্য কপ-২১ এর প্রেসিডেন্ট লরেন্ট ফ্যাবিয়াস ১৪ সদস্যের একটি দল গঠন করে দিয়েছেন। এর হলেন- গ্যাবনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইমানুয়েল ইসোজ-নগডেট, জার্মানির পরিবেশ মন্ত্রী জোসেন ফ্লাসবার্থ, ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রী ইসাবেলা টেক্সেইরা, সিংগাপুরের পরিবেশ মন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষনান, নরওয়ের জলবায়ু ও পরিবেশ মন্ত্রী টিনি সানডটফ, সেন্ট লুসিয়ার প্রযুক্তি মন্ত্রী জেমস ফ্লেচার, জাম্বিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী ওসমান জারজু, যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সেক্রেটারি আম্বার রুড, বলিভিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী রিনি ওরেলান্না, সুইডেনের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী আছা রমসন, পেরুর পরিবেশ মন্ত্রী ম্যানুয়েল পুলগার ভিডাল, কানাযার পরিবেশ মন্ত্রী ক্যাথেরিন ম্যাককানা, ইকুয়েডরের পরিবেশ মন্ত্রী ভিসেন্ট ওর্তেগা পাসিসো, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুলতান আহমেদ আল জাবের।
 

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে ইতিমধ্যে চুক্তির যে খসড়া তৈরী করেছেন তা চূড়ান্ত রূপ দিতে তারা কাজ করবেন। এই ১২জন প্রতিনিধিকে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। খসড়া চুক্তি নিয়ে যেসব দেশের আপত্তি আছে সেগুলো মিটিয়ে একটি কার্যকরী চুক্তি করার ব্যাপারে তাদের ভূমিকা থাকবে।