ব্রিটেন বন্যায় আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে রোববার সেনা সদস্য, লাইফবোট ও একটি সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। ভয়াবহ ঝড় ডেসমন্ডের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ বন্যা দেখা দিয়েছে।
ব্রিটেনে গত সপ্তাহান্তে ডেসমন্ড আঘাত হানে। এর প্রভাবে প্রবল বাতাস বয়ে যায় ও ভারি বৃষ্টিপাত হয়। এতে হাজার হাজার বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লন্ডনে ঝড়ে একজনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছে পুলিশ।
ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ও কামব্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।এখানে বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে। কিছু স্থানে কোমর সমান পানি জমে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই সপ্তাহান্তে আঘাত হানা ভয়াবহ ঝড়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সারা দেশের মানুষ দুর্গতদের সঙ্গে রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বন্যার্তদের সাহায্য করতে এবং আরো ক্ষতি ঠেকাতে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। কামব্রিয়ায় ঐতিহাসিক পুলি সেতু ভেঙে পড়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, দুই জন ভেসে গেছে। উত্তর ইংল্যান্ডে হাজার হাজার বাড়িঘর কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বন্যায় বিদ্যুতের একটি সাবস্টেশন ডুবে গেছে।
রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রিটেনের পরিবেশ সংস্থার ওয়েবসাইটে ১৩০ টি এলাকারও বেশি বিশেষত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বন্যা সতর্কতা বহাল ছিল। এর মধ্যে ৪৬ এলাকার জন্য ‘ভয়াবহ’ বন্যার সতর্কবাণী ছিল।
পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী এলিজাবেথ ট্রুস বলেন, ‘সরকারি কমিটি দ্রুত বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুর্গতদের মধ্যে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ কয়েকটি বন্যা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা হয়। কয়েক সপ্তাহ ছিল এই বন্যা। এছাড়া ২০০৫ ও ২০০৯ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও ব্যাপক বন্যা হয়। এএফপি।
