বিপিএল ক্রিকেট ঘিরে কালীগঞ্জে জুয়া বাণিজ্য

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫, ১১:২৪

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট চলছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। আর ২০ ওভারের এই ক্রিকেট খেলাটিকে ঘিরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পাড়ার মোড়ের টং দোকানে চলছে জুয়া বাণিজ্য।

গতকাল সোমবার দুপুরে পৌর এলাকার দড়িসোম গ্রামের খেয়াঘাট সংলগ্ন চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা গেল টেলিভিশনে চলছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও বরিশাল বুলসের মধ্যেকার খেলাটি। অনেক মানুষের জটলা। এর মধ্যে জনৈক যুবক হাঁক ছাড়ছেন, ‘এই ওভারে ছক্কা হবে’ কারা পক্ষে এবং বিপক্ষে বাজি ধরবেন? আর উপস্থিত বাজিকররা নির্দিষ্ট অংকের বাজি (জুয়া) ধরছেন।

দর্শক বিনোদনের জন্য বিপিএলের আয়োজন হলেও বাজিকরদের সুবাদে কালীগঞ্জ এখন জুয়ার নগরী। তবে এই জুয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কোনো নজরধারী এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

জানা যায়, স্থানীয়ভাবে যারা এই ক্রিকেট জুয়ার সাথে জড়িত তাদের সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততাও বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অথবা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ নিয়ে। স্থানীয়দের ক্রিকেট জ্ঞান যা তাতে মনে হয় না তারা দেশের কিংবা বিদেশে কোন ক্রিকেট লিগ চলছে তা জানেন।

অথচ স্থানীয় এই ক্রিকেট বাজিকররা বিশ্বের অন্যান্য দেশের অপরিচিত ক্রিকেট লিগের কথাও জানেন। তারা যে শুধু ক্রিকেট নিয়ে পড়ে আছেন তা কিন্তু নয়। ক্রিকেটের অনুপস্থিতিতে ব্যস্ত সময় কাটান ফুটবলের কোনো আসর বা লিগ নিয়েও।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপিএলের এবারের আয়োজনকে ঘিরে যে বাজি বা জুয়ার আসর চলছে, তাদের মধ্যে নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষই বেশি। বাজি থেকে অর্থ লাভের আশায় সারাদিনের কাজকর্ম ফেলে ক্রিকেট জুয়া খেলায় বসেন তারা। খেলা শেষে কেউ ফিরে হাসি মূখে আর কেউ ফিরে নিঃস্ব হয়ে। এছাড়াও কালীগঞ্জে এই নিম্নবিত্তের বাইরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশও বিপিএল ক্রিকেট জুয়ায় মেতেছে।     

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কালীগঞ্জ খেয়াঘাট, নতুন ও পুরাতন ব্যাংকের মোড়, বাসস্ট্যান্ড, দড়িসোম, মুনশুরপুর, খঞ্জনা, বড়নগর, বালীগাঁও, বাঘারপাড়া, ঘোনাপাড়া, মূলগাঁও, বোয়ালী, সোমবাজার, ভাদার্ত্তী পুরাতন সাব রেজিস্ট্রি অফিস, আড়িখোলা, কাপাসিয়ার মোড়, জামালপুর বাজার, দোলান বাজার, মৈশাইর বাজার, আওড়াখালী বাজার, জাঙ্গালীয়া বাজার, বক্তারপুর, নাগরী, উলুখোলা, সাওরাইদ প্রভৃতি এলাকার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকানগুলোতে ক্রিকেট বাজিকরদের বাজি তথা জুয়া ধরার প্রবণতা বেশি।

স্থানীয় ক্রিকেট বাজিকরদের বাজি ধরার পদ্ধতিটা খুবই চমকপ্রদ। টেলিভিশনে খেলা শুরু হওয়ার আগেই জয়-পরাজয়ের পক্ষে-বিপক্ষে দু’টি বাজিকরের দল দু’ভাগে বিভক্ত হয়। প্রথমে কে জয়ী হবে তার পক্ষে-বিপক্ষে বাজি ধরা হয়।

বাজির এই অর্থ সর্বনিম্ন ২শ টাকা থেকে শুরু করে ৪০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। তবে এর বাহিরেও চলে খুচরা বাজি। ‘এই ওভারে উইকেট পড়বে কিনা’? ‘এই ওভারে ছক্কা বা চার হবে কিনা’? ‘হলে কয়টি হবে’? ‘ওভারে কোনো ওয়াইড বা নো বল হবে কিনা’? এসব নিয়েই প্রতি ওভারে চলে খুচরা বাজির বাণিজ্য। এছাড়াও বাজি ধরা হয় ‘অমুক দল কত রান করবে’? ‘তমুক বোলার কত উইকেট নিবে’? ‘অমুক ব্যাটসম্যান কত রান করবে?, বা তিনি ফিফটি/সেঞ্চুরী করতে পারবে কিনা’?।

একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় এসব বেকারদের ক্রিকেট জুয়ার কারণে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছে। কিন্তু তারপরও ছাড়ছে না এই জুয়ার পথ। ক্রিকেটের এই বাজির টাকা জোগান দিতে তারা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এসব কারণে কালীগঞ্জে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের ধারণা এখনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে উপজেলায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়বে ছাড়া কমবে না।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, এটা জুয়া না ক্রিকেট খেলা দেখতে বসেছে বুঝার কোনো উপায় নাই। তাছাড়া জনসম্মুখে টাকা-পয়সা লেনদেনও করে না।