‘‌‌আইএসের তেল চোরাচালানের রুট তুরস্ক’

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৪:০৪

ইরাক ও সিরিয়ার অধিকৃত এলাকা থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) যে জ্বালানি তেল উত্তোলন করে তার অধিকাংশই তুরস্কের ভিতর দিয়ে চোরাচালান হয় বলে অভিযোগ করেছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি।

সোমবার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেইনমেইয়ারের সঙ্গে এক বৈঠকে এই অভিযোগ করেন আবাদি। আবাদির ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের (আইএস) তেল চোরাচালান বন্ধের উপর গুরুত্বারোপ করেন, যে তেলের অধিকাংশই তুরস্কের ভিতর দিয়ে পাচার হয়।

আইএসের অপর নাম দায়েশ। আরবি ভাষাভাষী রাষ্ট্রগুলো আইএসকে এই নামেই উল্লেখ করে থাকে। সিরিয়া ও ইরাকের আইএস নিয়ন্ত্রিত অংশ থেকে পাচার হওয়া তেলের চোরাচালানের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে তুরস্ক। নিজেদের সীমান্তে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জ্বালানির চোরাচালান বন্ধে তারা লড়াই করে আসছে এবং এ লড়াইয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে পাল্টা দাবি করেছে দেশটি।

গেল সপ্তায় উত্তর ইরাকের আইএস অধিকৃত শহর মসুলের কাছে ব্যাপকভাবে অস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিট মোতায়েন করে তুরস্ক। নিজভূমিতে তুর্কি সেনার উপস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য তুরস্কের উপর চাপ সৃষ্টি করছে ইরাক।

বিষয়টি নিয়ে দুদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তুরস্কের বিরুদ্ধে আইএসের তেল চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলল ইরাক। নিজ ভূখণ্ডে তুর্কি সেনার উপস্থিতিতে ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে এবং তুরস্ক তার বাহিনী প্রত্যাহার করে না নিলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তোলার হুমকি দিয়েছে ইরাক।

আবাদির অভিযোগের আগে সম্প্রতি একই ধরনের অভিযোগ করেছিল রাশিয়া। আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চোরাচালানকৃত তেলের হিস্যার একটা অংশ তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার পরিবার নিয়মিত পেয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। জবাবে অভিযোগ অস্বীকার করে এরদোগান বলেন, এটি প্রমাণ করতে পারলে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি।

তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তের সিরিয়া অংশে একটি রুশ বোমারু বিমানকে তুরস্কের জঙ্গি বিমানগুলো গুলি করে ভূপাতিত করার পর আইএসের তেল চোরাচালানের সঙ্গে তুরস্কের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রথম অভিযোগ তোলে রাশিয়া। রাশিয়ার ওই অভিযোগের পর এবার ইরাকও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ জানালো। রয়টার্স।