জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করছে পাকিস্তান: সাবেক সেনাপ্রধান

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫, ২৩:১৫

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ’ করে দেশের ‘জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করছে’ পাকিস্তান। সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুণ-অর-রশীদ এই মন্তব্য করেছেন। সার্ক সনদের ৩১তম বার্ষিকীতে মঙ্গলবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলো একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না’।


‘কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে শুধু হস্তক্ষেপই নয়, আমাদের আবেগের জায়গায়ও আঘাত করেছে পাকিস্তান। তারা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে’। যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে একথা বলেন তিনি।


দুই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে পাকিস্তান সরকার উদ্বেগ প্রকাশের পর ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানানো হয়। পরে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে একাত্তরে গণহত্যার কথা অস্বীকার করে পাকিস্তান সরকার।


১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর পাকিস্তানের অংশ হয়ে শোষণ-বঞ্চনার শিকার হওয়া বাংলাদেশ একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর স্বাধীনতা অর্জন করে। এই যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি নিহত এবং বহু নারী ধর্ষিত হয়।


বাংলাদেশে গণহত্যা চালানোর কথা অস্বীকার করে পাকিস্তান যে বক্তব্য দিয়েছে তা ‘বিরক্তিকর’ বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।


পাকিস্তানের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও পাওনা হিস্যা আদায়ের লক্ষ্যে উদ্যোগ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।


আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সার্ক সনদে স্বাক্ষর হলেও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের তিক্ততায় সংস্থাটি এ অঞ্চলের উন্নয়নে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে মনে করা হয়। এ অঞ্চলের নেতাদের ব্যর্থতায় সার্ককে শুধু ‘গালগল্পের কেন্দ্র’ বলেন অনেকে।


ভারত ‘নেতৃত্বের স্থান’ না নিলে সার্ক কার্যকর হবে না বলে সভায় মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুনসী ফাইজ আহমাদ।


তিনি বলেন, ‘ভারতের উচিত সার্কের নেতৃত্ব নেওয়া। কিন্তু এর (নেতৃত্বের) দায়িত্ব রয়েছে। ভারতকে নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা (সার্ক দেশগুলোর সঙ্গে) একইভাবে উন্নত হবে। কেবল তখনই দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে আমরা কার্যকর অগ্রগতি আনতে পারব’। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে সার্কের অগ্রগতির পথে ‘মূল বাধা’ বলে আখ্যায়িত করেন ফাইজ আহমাদ।


বর্তমানে সার্কের পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকা চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডায়ালগ পার্টনার’ করার প্রস্তাব দেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ আসে যে, ‘শীর্ষ সম্মেলন বা পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে আমাদের (চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র) শুধু বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়’।


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান থেকে এই ‘ডায়লগ পার্টনার’র ধারণা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। আসিয়ানে ‘ডায়লগ পার্টনার’ হিসেবে রয়েছে চীন।