বাঙালি জাতির গৌরবের মাস ডিসেম্বর। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই মানচিত্রে আমাদের প্রণম্য মুক্তিযোদ্ধা তারকাদের সংখ্যাও কম নয়। প্রতিবছর বিজয়ের মাসে আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে শিল্পী-কুশলীদের লেখা বা স্মৃতিগদ্য ছেপে থাকি। এ বছরে পুরো মাসজুড়ে তারকাদের বয়ানে থাকবে তাদের দেখা যুদ্ধকালীন খণ্ডচিত্র। এ নিয়েই পুরো ডিসেম্বরের আয়োজন ‘সেই সময়’। আজ লিখেছেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী উমা খান
মুক্তিযুদ্ধের তো অনেক ভিন্ন ভিন্ন বিচ্ছিন্ন স্মৃতি রয়েছে। তবে মিডিয়াতে পদচারণা আমার এই মহান মুক্তিযুদ্ধেই হয়। ৭১-এর জুন মাসে আমি কলকাতায় যাই। আমার বড় চাচা বাঘা যতীনের বাসায় উঠি। জব্বার ভাইয়ের সাথে আমার আরও ছোটবেলা থেকেই পরিচয়। তিনি প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতেন, আমাকে গান শোনাতেন, গপ্প-সপ্প করতেন। তিনি জানতেন আমি তার অসম্ভব একজন ভক্ত, আমি তার গানের পাগল। তাই আরও বেশি আসতেন ও আমাকে অনেক আদর করতেন।
কলকাতায় হঠাত্ পথে একদিন জব্বার ভাই আর অজিত রায়ের সাথে দেখা। দেখা মাত্রই জিজ্ঞেস করলেন আমি কোথায় থাকি। বললাম, আমি আমার বড় চাচার বাসায় উঠেছি। ওইদিনই বিকেলে জব্বার ভাই এবং অজিত রায় বাসায় এলেন। জব্বার ভাই বললেন, আমাকে তিনি স্বাধীনবাংলা বেতারে নিয়ে যাবেন এবং সেদিনই নিয়েও যান।
তখন আমি কচি-কাঁচার আসরে গান করতাম। কিন্তু জব্বার ভাই স্বাধীনবাংলা বেতারে কোরাস গানের মধ্য দিয়ে আমার গান গাওয়া শুরু করালো। আমার কাছে বিষয়টি সেদিন অনেক বড় পাওয়া মনে হয়েছে। সেখানে গিয়ে সমর দা, সাবিনা ইয়াসমিন, ফরিদা খানমসহ অনেক গুণী ব্যক্তিদের সাথে দেখা। জব্বার ভাই আমাকে নিজের সন্তানের মতো আদর করতেন।
সেই থেকে আমার গান গাওয়া শুরু হলো। পুরো যুদ্ধটাতেই স্বাধীনবাংলা বেতারে গান করেছি। এখনও জব্বার ভাই আমাকে দেখলে আদরের সহিত মা স্বরসতী বলে ডাকে। আর এমনিতে মুক্তিযুদ্ধের হাজারো স্মৃতি রয়েছে, যা কখনও ভোলার নয়। অনেক কঠিন মুহূর্ত ছিল এটি বাঙালির জন্য। সেই কষ্ট-স্মৃতি এখন অনেকেই ভুলতে বসেছে। তরুণদের জানানোর বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত।
