'গ্রেট ফায়ারওয়াল অফ চায়না' থেকে মুক্তি মিলছে না ফেসবুক, টুইটার আর ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন বিদেশি ওয়েবসাইটের। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ইন্টারনেট বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা লু ওয়েই জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই সাইটগুলো আনব্লক করার কোনো পরিকল্পনা নেই চীনের। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমি আপনাকে বদলাতে পারবো না। কিন্তু কে আমার বন্ধু হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার আছে।'
ইন্টারনেটের উপর চীন সরকারের সেন্সরশিপ ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল অফ চায়না’ নামে পরিচিত। চীনের সরকার দেশটির ইন্টারনেট সংযোগ বাইরের বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এমন অভিযোগও শোনা যায় হরহামেশাই। তবে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে গেছেন ওয়েই।
পশ্চিমা ওয়েবসাইটগুলো চীনে ব্লক করে রাখা প্রসঙ্গে আলোচনা-সমালোচনা কোনো কিছুর মুখেই পিছু হটেনি চীন সরকার। ফেইসবুক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ বেশ কিছুদিন ধরে চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ার চেষ্টা করলেও তাদের মন গলাতে পারেননি বলে জানিয়েছে সিএনএন। সেন্সরশিপ ধরে রেখে স্থানীয় ওয়েবসাইটগুলোকে নিয়ে নিজের সীমানার মধ্যে যেন আলাদা একটা ডিজিটাল জগৎ তৈরি করে নিয়েছে দেশটির সরকার।
চীনে পশ্চিমা সাইটগুলো আনব্লক করে দেওয়ার প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়ে ওয়েই আরো বলেন, 'এখানে আমাকে বাছাই করতেই হবে। চীনের মাটিতে এসে চীনকেই অপমান করে অর্থ উপার্জন করতে চায় এমন কাউকে স্বাগত জানাই না আমরা। এটা এমন একটা পরিবারের মতো যা বন্ধুসুলভ নয় এমন কাউকে অতিথি হিসেবে স্বাগত জানায় না।'
ওয়েই-এর দাবি, অনলাইনে কনটেন্টের উপর চীন খড়গ চালায় না বরং সুশৃঙ্খল রাখে। তিনি বলেন, 'চীনের ৪০ লাখ ওয়েবসাইট, প্রায় ৭০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ১২০ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী আর ৬০ কোটি উইচ্যাট ও ওয়েইবো ব্যবহারকারী আছে। তারা প্রতিদিন অনলাইনে ৩ হাজার কোটি মেসেজ পোস্ট করে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশের সরকারের পক্ষে ৩ হাজার কোটি মেসেজ সেন্সর করা নেহাতই অসম্ভব।' বিডি নিউজ।
