রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নয়জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত তিন মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ৩৫ টি মামলা রয়েছে । আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
হলফনামার তথ্যানুযায়ী, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্বাস আলী পেশায় ব্যবসায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। বিগত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন। অপর ছয়টি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। বিচারাধীন মামলার মধ্যে ২০০১ সালের একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। তবে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। বাকি চারটি মামলার দুটি বিস্ফোরক এবং অপর দুইটি অন্যান্য ধারার। বিস্ফোরকের মামলা দুইটি চলতি বছর দায়েরকৃত।
আব্বাস আলী বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে হত্যা মামলাটি দেয়া হয়েছিল। একইভাবে রায়ও হয়েছে। আশা করি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাব।’ চলতি বছরের দুইটি বিস্ফোরক মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলের নেতাদের সঙ্গে একটু মনোমালিন্য হয়েছিল। এ কারণেই মামলাগুলো হয়েছে।’
এদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাটাখালী পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা। তিনি বিএ পাস, পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলার একটি বিস্ফোরক আইনের। মতামতের জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করেও মাসুদ রানাকে পাওয়া যায়নি।
জামায়াতের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মাজিদুর রহমান একটি কলেজের অধ্যাপক। ২০০২ সালে কাটাখালী পৌরসভা গঠনের সময় তিনি প্রশাসক নিযুক্ত হন। প্রশাসক থাকা অবস্থায় ২০১১ সালে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। হলফনামায় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে এ পর্যন্ত ২৭ টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিস্ফোরক আইনের মামলা সংখ্যা ১২ টি। অন্য মামলাগুলো নাশকতা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত। এসব মামলায় তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক মামলা।’
এ সময় এসব মামলায় আবারো তাকে আটক করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া বিএনপির পৌর সভাপতি ও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
হত্যাসহ পাঁচ মামলার আসামিকে দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, সবার নামই কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। আব্বাস আলী কেন্দ্র থেকেই মনোনয়ন পেয়েছেন। এ পৌরসভায় ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন মাহবুবুর রহমান। তার হলফনামা না পাওয়ায় মামলার বিষয়টি জানা যায়নি।
