বাংলা চলচ্চিত্রের ধারাবাহিক সফল চিত্রনায়ক ফেরদৌস। ক্যারিয়ারের এ পর্যন্ত অসংখ্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের নায়ক তিনি। অভিজ্ঞতার ঝুলিটাও এখন অনেকটা পরিপূর্ণ। সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের নানা দিক নিয়ে বিনোদন প্রতিদিনের সাথে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মারুফ রহমান
চলতি সময়ে আপনার ব্যস্ততা কী নিয়ে?
ব্যস্ততা বলতে এখন বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাজ একসাথে করতে হচ্ছে। এরমধ্যে কাজ করে যাচ্ছি ‘মেঘ কন্যা’, ‘পুত্র’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘পোস্টমাস্টার ৭১’ শিরোনামের চলচ্চিত্রগুলোতে। এছাড়া আজ মুক্তি পাচ্ছে আমার অভিনীত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘শোভনের স্বাধীনতা’ শিরোনামের চলচ্চিত্রটি। এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে কিছু বলুন।
এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। মানিক মানবিক পরিচালিত চলচ্চিত্রটিতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে আমার সাথে অভিনয় করেছেন নিপুণ, জলি, খাইরুল আলম সবুজ, কিশোরসহ অনেকে।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় এখনকার অবস্থা সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?
গত এক দশকে যেসব মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র দেখেছি বা ভালো লেগেছে, তার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের ‘আগুনের পরশমণি’ ও ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্র দুটি উল্লেখযোগ্য। আমার কাছে মনে হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের মধ্যে এই চলচ্চিত্র দুটি খুবই মানসম্মত। সেক্ষেত্রে মানসম্মত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে শহরভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণে খুব বেশি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। কেননা আমাদের অনেক টেকনিক্যাল সাপোর্টের অভাব আছে। যেমন তত্কালীন যুদ্ধে ব্যবহূত যুদ্ধের গাড়ি, ট্যাঙ্ক এ সমস্ত জিনিসের সাপোর্ট আমাদের নেই। তাই আমাদের দেশে ইমোশনাল মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করার ইচ্ছা থাকলেও উপায় থাকে না। এসব প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও বাজেটের একটি সমস্যা তো আছেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে।
যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে অনেকে সমালোচনা করছেন। এ প্রসঙ্গে আপনি কী বলবেন?
কে কী মতামত পোষণ করছে, সেটা তো আমি বলতে পারব না। তবে আমি এই ধরনের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রের পক্ষেই কথা বলব। কিছু কিছু লোক থাকে যাদের কোনো কাজ নেই বড় বড় কথা বলা ছাড়া। আমার মনে হয়, এই ধরনের লোকেরাই যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে কথা বলে। আজ এই ধরনের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমাদের দেশের অনেক অভিনয়শিল্পীরাই প্রতিষ্ঠিত। আমি নিজেও ‘হঠাত্ বৃষ্টি’ শিরোনামের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করেছি।
বর্তমানে আমাদের দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নায়ক সঙ্কট বলে একটি কথা শোনা যায়, এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
বর্তমানে আমাদের দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নায়ক সঙ্কট রয়েছে, এই কথাটির কোনো ভিত্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। বরং আমরা যখন চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসেছিলাম, ঠিক ওই মুহূর্তে নায়ক সঙ্কট থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নায়কের সঙ্কট আছে এই কথাটি আমি মেনে নেব না। তবে নায়ক সঙ্কট না থাকলেও পরিচালক সঙ্কট আছে বলে মনে হয়। আর তাই অনেক মেধাবী নায়ক থাকলেও তাদের ভালোভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না বা পরিচালক পারছেন না। পরিচালক যদি মানসম্মত হয়, তাহলে মানসম্মত নায়কের অস্তিত্ব আমাদের চলচ্চিত্র আছে বলে মনে হয়।