সিরীয় শরণার্থীদের স্বাগত জানালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:২২

কানাডার একটি বিমান ১৬৩ সিরীয় শরণার্থী নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কানাডা অবতরণ করেছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে কানাডা কয়েক হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিমানটির মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হল। খবর এএফপির।


বিবিসি বলছে, দেশটির নয়া প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ত্রুদো ১৬৩ জন সিরীয় শরাণার্থীকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘কীভাবে উদার হতে হয় তাই বিশ্বকে দেখাচ্ছে’ তার দেশ। দেশটিতে সদ্য ক্ষমতায় আসা উদারপন্থী সরকার আসছে বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ২৫ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার মন্ট্রিয়লে আরও একটি শরণার্থীবাহী বিমান এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


দেশটির শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী জন ম্যাককালাম জানিয়েছেন, কানাডার ১০টি রাজ্যই শরণার্থী গ্রহণ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ম্যাককালাম বলেন, ‘কানাডার জন্য এ এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এর মধ্যদিয়ে আমাদের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। এটি সত্যিই নির্দলীয় জাতীয় প্রকল্প’।


নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিক বিমানে করে শত শত সিরীয় শরণার্থী কানাডায় প্রবেশ করেছে। চলতি সপ্তাহে মোট ৩০০ জন সিরীয় শরণার্থী দেশটিতে পৌঁছুবে। ম্যাককালাম জানিয়েছেন, লেবানন ও জর্ডানে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ শরণার্থীকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর ত্রুদোর নেতৃত্বাধীন উদারপন্থী দল দেশটির নির্বাচনে জয় লাভ করে।


পূর্বসূরি প্রধানমন্ত্রী রক্ষণশীল দলীয় স্টিফেন হারপারের শরণার্থীনীতির বিপরীত অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ত্রুদো। হারপার কানাডায় আরো মানুষকে বসতি স্থাপন করতে দিতে অনাগ্রহী ছিলেন।

 

IMG0


অন্যদিকে কানাডার প্রতিবেশি রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী বছর নাগাদ দেশটি ১০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে। অবশ্য প্যারিস ও ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলার পর বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান গভর্নর চেষ্টা করেছিলেন এই শরণার্থীদের যেন তাদের রাজ্যে আশ্রয় দিতে না হয়। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেন, মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত। এই বক্তব্যের পর তিনি বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।