জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এবারের বিজয় দিবসে ‘কোটি কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের’ ডাক দিয়েছে ‘বিজয় দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি’। ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংগীত গাওয়া হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিটি হবে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। শুক্রবার সকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান, বিজয় দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ইমরান এইচ সরকার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে আত্মসমর্পণ করেছিল বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী। ২০১৩ সাল থেকে ঠিক এ সময়েই সারা দেশসহ বিশ্বব্যাপী লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে বিজয়ের উৎসবকে আগামীর প্রত্যয়ে পরিণত করে আসছে জাতীয় কমিটি’।
এ বছর দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন-গ্রামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে একযোগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার পাশাপাশি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান ইমরান।
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র বলেন, ‘এবার কেবল লাখো কণ্ঠে নয়, কোটি কণ্ঠে বিশ্বব্যাপী জাতীয় সংগীত গাইবেন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিকামী সকল মানুষ’।
‘জাতীয় সংগীতের পবিত্র সুরে বিশ্বব্যাপী প্রতিহত করবেন যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদও জঙ্গিবাদী অপশক্তিকে; শপথ নেবেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপ্রসূত শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে’।
সম্মেলন থেকে জানানো হয়, এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় উৎসবের উদ্বোধন হবে ১৬ ডিসেম্বর বেলা ১১টায়, উদ্বোধন করবেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।
ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমাদের সংস্কৃতি’। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব।
বিকাল ৪টা ৩১ মিনিটে কোটি কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে হবে ‘আগামী বাংলাদেশের শপথ’। শপথবাক্য পড়বেন বিজয় দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আবদুল গাফফার চৌধুরী।
বিকাল ৪টা ৪৭ মিনিট থেকে ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের কণ্ঠে মুক্তিযুদ্ধের গান। এরপর আছে ‘বিজয় আতশ সন্ধ্যা’।
সবশেষে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বিজয় মঞ্চে হবে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদলের অংশগ্রহণে ‘কনসার্ট ফর ফ্রিডম’।
ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছরে বাংলাদেশ যেমন এগিয়ে এসেছে সামনে, তেমনি ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির হিংস্র থাবা’ বারবার আক্রান্ত করেছে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে।
‘একদিকে একাত্তরের কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে, তেমনি একাত্তরের মতোই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতার স্বপক্ষের লেখক-প্রকাশকসহ মুক্তচিন্তক মানুষদের হত্যা করছে’। তাই এবার আরও সাহসী, আরও প্রাণবন্তভাবে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানান কমিটির সদস্য সচিব।
বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবুল বারকাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশতাক হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
