গত ৪ ডিসেম্বর সেন্সর বোর্ডে প্রদর্শিত হয় ‘রাজপুত্তুর’ এবং ছবিটি আনকাট ছাড়পত্র পায়। এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপে বাংলাদেশ শিল্পকলা একডেমির তত্ত্বাবধানে ‘রাজপুত্তুর’ ছবিটি ৬৪ জেলার শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। ছবিটি নিয়ে বিনোদন প্রতিদিনের মুখোমুখী হয়েছেন নির্মাতা টোকন ঠাকুর। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক
আপনার ছবিটি আনকাট সেন্সরশীপ পেল। কেমন লাগছে নির্মাতা হিসেবে?
অবশ্যই ভালো, আর আমার ছবিটির নান্দনিকতা নিয়ে নিজের এক অফুরন্ত আত্মবিশ্বাস ছিল, তাই এটাই প্রত্যাশিত ছিল।
নিজের স্বাধীনচেতা মানসিকতার বাইরে অনুদানের ছবি করলেন, পরনির্ভরশীলতার খোঁচা লাগেনি মনে?
প্রশ্নটা কঠিন, এটা নিয়ে আমিও যে ভাবিনি না নয়। তবে একটা বিষয় শুধরে দিই, তা হলো ছবিটি কিন্তু গতানুগতিক ধারার অনুদানের ছবি নয়, সম্ভবত এটিই প্রথম সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অর্থায়নের কোনো ছবি। আর আর্থিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এটুকু পরনির্ভরশীল তো আমাকে হতেই হবে।
কিন্তু যা অর্থ পেয়েছেন তাতেই আপনার ছবি পূর্ণ হয়ে গেছে-
কখনোই না। আমি ছবিতে যে অ্যানিমেশনের কাজ করেছি সেই বিল আজও বাকি রয়েছে। ছেলেদের সামনে মুখ দেখাতে পারি না। অথচ আমি মহা চলচ্চিত্র নির্মাতা হয়ে গেছি। যা অর্থ সহযোগিতা পেয়েছি তা দিয়ে ভালো ছবি নির্মাণ সম্ভব না। এছাড়া আমার তো টাকাওয়ালাদের সাথে যোগাযোগ কম। তাই এক্ষেত্রেও পিছিয়ে গেছি।
আপনার ছবি নিয়ে বলুন। ছবির গল্প, প্রেক্ষাপট কিংবা অভিজ্ঞতা-
রাজপুত্তুর ছবিটি ছোটদের জন্য। শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় প্রদর্শিত হবে। তাতে সারা বাংলাদেশের অধিকাংশ শিশু-কিশোররা ছবিটি দেখার পর কোনো বড় বা বোদ্ধা মানুষরা যদি আমার ছবিটি দেখে তবে তা আমার জন্য বোনাস। এর বেশি প্রত্যাশা নেই। আর অভিজ্ঞতা তো বিশাল। শুধু বলবো, গাজীপুরের তাজউদ্দিনের জন্ম ভিটায় ছবিটির একটানা দীর্ঘদিন শুটিং হয়েছে। নেতার মেয়ে জিনিয়া আহমেদ অনুমতি তো দিয়েছেনই, আমাদের সাথে সেই বাড়িতে শুটিংয়েও ছিলেন। আর ছবিতে আমি ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কোনো তারকা রাখিনি। তাই যন্ত্রণা বেশি, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের শিখিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়েছি।
কবি টোকন ঠাকুর, এরপর নাট্য নির্মাতা, অতঃপর চলচ্চিত্রকার-কোনটি স্বাচ্ছন্দ মানুষ?
সবটাই আমি। তবে আর নাটক নির্মাণ করবো না।
সে কী? কেন?
না, ওই দুই লাখ টাকা খরচ করে ১৫/২০ হাজার টাকা গচ্চা দিয়ে ‘আমি নির্মাতা হলুম রে’ এই ভাব নিয়ে বেঁচে থেকে লাভ কি? আমি ওই ফাপরবাজিতে নেই। আমি চিত্র-নির্মাতা হিসেবে সব ধরনের ছবি করতে চাই।
নাচ-গান-ফাইটে ভরপুর ছবিতে কবে দেখবো?
প্রডিউসার এনে দিন। কাল থেকেই শুটিং করবো। আমি ও রকম কমার্শিয়াল ছবিই করতে চাই।
নির্মাতা হিসেবে পেশাটা কতটা ঝুঁকিহীন এখন?
ঝুঁকি নেই তো। নইলে এতো এতো ডিরেক্টর কিভাবে এলো। দরকার ভালোমানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। আমাদের মেধার অভাব নেই। প্রয়োজন সমন্বয়।
