সালমান খান গত বৃহস্পতিবার মুম্বাই হাইকোর্টের রায়ে ২০০২ সালের গাড়ি চাপা দিয়ে অনিচ্ছাকৃত হত্যার মামলায় নিঃশর্ত রেহাই পেয়েছেন। আর সেই সঙ্গে রেহাই পেয়েছে বলিউড, ভারতীয় বিজ্ঞাপন সংস্থা ও টেলিভিশনের পাঁচশো কোটি রূপি!
যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানারে ‘সুলতান’ নামের নতুন একটি ছবির কাজ করছেন সালমান। কাজটা প্রায় শেষ। তারকার পাঁচ বছর কারাদণ্ডের সাজা বহাল থাকলে শেষ লগ্নে বিপাকে পড়তেন প্রযোজক আদিত্য চোপড়া। ‘সুলতান’ ছাড়াও আরও কিছু বিগ বাজেটের ছবিতে চুক্তিবদ্ধ সালমান। তালিকায় আছে বক্স অফিস কাঁপানো ‘কিক’-এর সিকুয়েল। টেলিভিশন রিয়েলিটি শো (বিগ বস ৯) সঞ্চালনার কাজও করছেন তিনি। সঞ্চালক হিসেবে সালমানের দক্ষতাই টিআরপি-র শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে অনুষ্ঠানটিকে।
মাঝপথে সালমান সরে গেলে নিঃসন্দেহে বড়সড় ধাক্কা খেতেন প্রযোজকেরা। তা বাদে অন্তত আটটি বহুজাতিক সংস্থা তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে টাকা ঢেলেছে সালমানের উপর। ফলে, তার শাস্তি হলে বিপুল আর্থিক ধস সামাল দিতে হতো তাদেরও। সব মিলিয়ে এর আর্থিক মূল্যটা ৫০০ কোটি রূপিরও বেশি। এই ৫০০ কোটি রূপি বাচাতে সালমানকে খরচ করতে হয়েছে মাত্র ২০ থেতে ২৫ কোটি রূপি। আগামী ২৭ ডিসেম্বর ৫০-এ পা দিচ্ছেন সালমান। হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে একযোগে বলিউড বলছে, জন্মদিনের সেরা উপহার পেয়েছেন তিনি।
রায় ঘোষণার সময় মুম্বাইয়ের মালবনির ঘিঞ্জি বস্তিতে ছটফট করছিলেন বছর পঁচিশের ফিরোজ শেখও। ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে সালমানের গাড়ির আঘাতে বাবাকে হারিয়েছিলেন ফিরোজ। পড়াশোনা ছেড়ে সংসারের হাল ধরতে হয় ফিরোজকে। আর্থিক ক্ষতিপূরণেও প্রলেপ পড়েনি ক্ষতে। হাইকোর্টের রায় শুনে ফিরোজের প্রতিক্রিয়া, গাড়িটা তা হলে কে চালাচ্ছিল?’বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
