বুরুন্ডির রাজধানী বুজুমবুরায় দিনভর চলা বিশৃঙ্খলা ও বন্দুক যুদ্ধের পর অন্তত ৩৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই রাস্তায় পড়েছিল। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মৃতদেহগুলোর বেশিরভাগই তরুণদের এবং অনেকের হাত পিঠমোড়া করে বাঁধা ছিল।
পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, শুক্রবার বুজুমবুরার তিনটি সামরিক সাইটে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলার পর প্রায় দিনভরই রাজধানী জুড়ে বিস্ফোরণ ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
মূলত নিয়াকাবিগা জেলায় ওই সংঘর্ষ হয়। পাশের মুসাগা জেলা থেকেও বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামরিক সাইটে হামলার পর প্রতিশোধ নিতে পুলিশ অনেককে হত্যা করেছে। নিয়াকাবিগা জেলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুক্রবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ অনেককে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
ওই জেলার এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, ‘তারা (পুলিশ) আমাদের উঠানে প্রবেশ করে এবং বাড়িতে থাকা সব তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষদের এক জায়গায় জড় করে। এরপর তারা তাদের বাড়ি থেকে বাইরে বের করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে’।
যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের মুখপাত্র পিয়েরে এনকুরিকিয়ে বলেন, ‘শুক্রবার সংঘর্ষের সময় এভাবে কাউকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এসে হত্যা করা হয়নি। নিহতদের সবাই হামলাকারী। সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের হত্যা করা হয়’।
যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এপ্রিলে বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট পিয়েরে এনকুরুনজিজা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা দেন। তারপর থেকেই মধ্য আফ্রিকার দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
