মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, দেশের কোনো শিশু যেন রাস্তায় মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য না হয় সে জন্য প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। তিনি বলেন, পথ শিশু বলে আর কিছু থাকবে না। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগীতা চান প্রতিমন্ত্রী।
রবিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড কাওরান বাজার, ফার্মগেট, তেজকুনী পাড়া এলাকার পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন কিছু সংগঠন ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন চুমকি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কমলাপুর এলাকাকে পথ শিশু মুক্ত করা হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সকাল ওয়ার্ডের পথ শিশুকে পুনর্বাসনের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার’।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষের জন্য বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা আগে থেকে নির্ধারণ করার চিন্তা করছে সরকার’। তিনি বলেন, ‘নদী ভাঙ্গনের ফলে রাজধানীতে পথ শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু সংখক মাদক ব্যবসায়ী ও ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী পথ শিশুদের জিম্মি করে তাদের স্বার্থে পথ শিশুদের ব্যবহার করছে। এই সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি’র সভাপতিত্বে উক্ত সভায় আশার আলো সোসাইটি, অ্যাসিসটেন্ট ফর স্লাম ডুয়েলারস, অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (মজার ইশকুল), অপরাজেয় বাংলাদেশ, প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন এর প্রচেষ্টা স্কুল, ইনসিডিন বাংলাদেশ, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, আপন), বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন. দু:স্থ সহায়তা কেন্দ্র, দ্য ইউথ ফাউন্ডেশনসহ অনেক সামাজিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।
আলোচনা সভার শুরুতে পথ শিশুদের নিয়ে এক সমীক্ষার উপর প্রতিবেদন পেশ করেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন। সমীক্ষায় বলা হয়, দরিদ্রতা, আশ্রয়ের অভাব, ভিন্ন পরিবার, পিতা মাতার মৃত্যু, আবাসন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভুমিহীনতা প্রভৃতি কারণে পথ শিশুর সংখা বৃদ্ধি পায়।
