সুপার এল নিনো খরা, অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও তুষারপাত বয়ে আনছে। আর এর ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাপুয়া নিউ গিনি। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম সোমবার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।
লোকজনের জীবন বাঁচাতে ত্রাণ সহায়তা আরো জোরদার করা প্রয়োজন উল্লেখ করে অক্সফাম বলেছে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪৭ লাখ লোক ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভিন্ন অসুখের সম্মুখীন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী এটা একটা সংকট। জীবন বাঁচাতে এল নিনোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। এতে বলা হয়েছে, চলমান এল নিনো এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি। এর অর্থ আবহাওয়া পরিস্থিতি আরো চরম হবে এবং এর ফলে লোকজনের খাদ্য নিরাপত্তা, জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে একটি বিশেষ উষ্ণতার সময়ের পাশাপাশি আবহাওয়ার ধরণগত একটি অবস্থার নাম এল নিনো। এর প্রভাবে জলবায়ু চরম হয়ে উঠতে পারে। গত মাসে জাতিসংঘ আবহাওয়া সংস্থা এল নিনোর সতর্কবাণী করেছিল। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার তাপমাত্রা উষ্ণ হয়ে উঠেছিল যা গত ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। অক্সফাম জানায়, এল নিনোর প্রভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে এবং প্যারিসে গত সপ্তাহান্তে একটি ঐতিহাসিক জলবায়ু চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্য হলেও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে দ্রুত আরো অনেক কিছু করা প্রয়োজন।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, চলমান এল নিনোর ফলে বিশ্বব্যাপী ৪ থেকে ৫ কোটি লোক ২০১৬ সালের শুরুতে ক্ষুধা, ব্যাধি ও পানির ঘাটতির মুখে পড়তে পারে। এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পাপুয়া নিউ গিনি, আফ্রিকার ইথিওপিয়া ও মালাবি এবং লাতিন আমেরিকার গুয়াতেমালা, হাইতি ও হন্ডুরাস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাপুয়া নিউ গিনির বিশেষত উঁচু ভূমি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমপক্ষে তিন লাখ লোক ব্যাপক খরা ও তুষারপাতে ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। গবাদিপশু মারা যাচ্ছে। খরায় ভানুয়াতু, ফিজি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, সামোয়া ও টোঙ্গার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। ফসল ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং সামোয়া ও কুক দ্বীপপুঞ্জের মত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের দেশগুলো শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এশিয়ার মৌসুমি বৃষ্টিপাত হ্রাস পেতে পারে। ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফিলিপাইনেও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস খুব একটা নেই। ২০১৬ সালের মার্চে দেশটির ৮৫ শতাংশ এলাকায় খরা হতে পারে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে ইথিওপিয়ার ৮২ লাখ লোকের সাহায্য প্রয়োজন বলে অক্সফাম জানিয়েছে। এছাড়া আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় খরা চলছে। এএফপি।
