চার হত্যা মামলায় নরসিংদীতে ৪ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৭:৫১
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর গ্রামের চারজনকে খুন করার দায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন ও সাতজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
 
সোমবার দুপুরে মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার-৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ। এই মামলায় ৬১ সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
 
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান। অপরদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সালেহা বেগম শিউল, জসিম উদ্দিন ও মাহাবুব আহম্মেদ।
 
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আল আমিন, শাহীন মিয়া, কালা মিয়া ওরফে কাচালা ডাকাত এবং অলেখ চান। তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 
১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- মোবারক, জামাল ওরফে লেংড়া জামাল, আনোয়ার হোসেন আনার, মিষ্টু মিয়া ওরফে মোবারক আলী, তারেক মিয়া, জিল্লু মিয়া ও জামাল মিয়া। তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদেরকে আরো একমাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
 
জানা যায়, শামসুদ্দিন মোল্লার সঙ্গে আল-আমিনের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শামসুদ্দিনের পুরাতন বাড়ি আল আমিনকে না দিয়ে তার ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দেয়ায় বিরোধ আরো বেড়ে যায়। আল আমিনের কাঁঠাল গাছের ডাল শামসুদ্দিনের টিনের ওপর এসে পড়ে। এ নিয়ে দুই পক্ষে ঝগড়া বিবাদ হয়। এক সময় বিবাদ গড়ায় মারামারিতে।
 
২০০৬ সালের ২৭ নভেম্বর আল আমিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে শামসুদ্দিনের ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে রুমে ঢোকেন। আসামি রনি মিয়া (১৪) প্রথমে রুমে ঢুকে দরজা খুলে দেন। পরে অন্য আসামিরা রুমে ঢুকে রোমানা ও রুনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় কিরিচ দিয়ে কোপান ও মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলে রোমানা মারা যান এবং রুনা সাত দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান। ঘরে থাকা  রুমানার শিশু সন্তান অর্নব (২১ দিন) ও রুনার শিশু কন্যা বর্ণকে (৯ মাস) আসামিরা মাথায় চাপাতি দিয়ে আঘাত ও মাথা থেতলে দিলে ঘটনাস্থলে তারাও মারা যায়।
 
পরে এ ঘটনায় রুমানা ও রুনার বাবা মো.শামসুদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেন।